‘এম এন লারমা সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন’

ছবি: আগামীর সময়
বাঙালি ছাড়া অন্য জাতিসমূহের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে রাষ্ট্র বাঙালি কর্তৃত্ববাদের জাত্যভিমানী চরিত্রই জাহির করছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষক পাভেল পার্থ। বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জাত্যভিমানী সংবিধানের খেরোখাতায় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সংবিধান দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।
পাভেল পার্থ বলেন, ‘এম এন লারমার সংবিধান দর্শনে জুমচাষ, কৃষিচাষ, রাজস্ব আদায়, উৎপাদন ব্যবস্থায় কৃষি প্রশ্ন, পরিবেশ-প্রতিবেশ দর্শন তথা শোষিত-নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকারকে সন্নিবেশিত করাসহ নারী প্রশ্নও রয়েছে। এসবই একটি বৈজ্ঞানিক বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের ধারক-বাহক, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’
আজ মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রহমান মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি ২০২৬’। সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্য সচিব মনিরা ত্রিপুরা।
আলোচনায় অংশ নিয়ে লেখক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এম এন লারমা কার্যত বহুত্ববাদী রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।’
অন্যদিকে মারুফ মল্লিক বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সংবিধানে চাপিয়ে দেওয়া বাঙালি জাতীয়তাবাদ কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। এটি রাষ্ট্রে বহুত্ববাদী অন্তর্ভুক্তির পথে অন্তরায়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিন বলেন, ‘সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা তুলে এনে এম এন লারমা সংবিধানের ত্রুটিগুলো বিশ্লেষণ করেছিলেন। এম এন লারমা তার সমসাময়িক সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক ড. মারুফ মল্লিক, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী ড. ঈশিতা দস্তিদার এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক মেইনথিন প্রমীলা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, ‘এম এন লারমার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শন স্পষ্ট ও বৈজ্ঞানিক। ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, এম এন লারমা তা ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় গণপরিষদে বলেছিলেন।’
মানবাধিকারকর্মী ঈশিতা দস্তিদার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও অধিকার সম্পর্কিত অতি ক্ষুদ্র বিষয়গুলোর সঙ্গে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সংবিধান দর্শন জড়িত, যা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্নতাবাদ নয়। বর্তমান সময়ে পরিবেশ বিপর্যয়ে জনপদগুলো যখন বিপর্যস্ত হচ্ছে, তখন লারমার পরিবেশ-প্রতিবেশ দর্শনের প্রাসঙ্গিকতাও সামনে আসে।’
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক মেইনথিন প্রমীলা বলেন, ‘নানা ন্যারেটিভ তৈরির মাধ্যমে আদিবাসীদের রাষ্ট্রীয় অধিকারকে ধামাচাপা দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তন হলেও সরকারের দখলদার চরিত্র পরিবর্তিত হয় না।’



