৬২ বছরে প্রথম শিল্পকলার মঞ্চে
রুনা লায়লা বললেন, ‘জীবনে অনেক বেশিই পেয়েছি’

কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা
কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা মঞ্চে প্রবেশ করতেই দর্শকপূর্ণ মিলনায়তন মুখরিত হলো তুমুল করতালিতে। মঞ্চে তখন সঞ্চালক ও অভিনেতা আফজাল হোসেন জানালেন, ৬২ বছরের সংগীতজীবনে প্রথমবার রুনা লায়লা শিল্পকলা একাডেমির আমন্ত্রণে গাইতে এলেন। এই মুহূর্তে তার কেমন লাগছে? জানতে চাইলে রুনা লায়লার সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘অবশেষে ডেকেছে, এটাই তো বেশি।’ আমন্ত্রণ জানানোর জন্য শিল্পকলা একাডেমিকে ধন্যবাদ দিয়ে রুনা লায়লা বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের দেশের অনেক ভালো করুক। আমরা সবাই যেন দেশের জন্য কাজ করি।’
যারা স্বাধীন দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন- তাদেরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রুনা লায়লা প্রথম গান হিসেবে গেয়ে শোনান ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ ভুলিনি আমরা’।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হয়।
এর আগে অনুষ্ঠানে রুনা লায়লাকে সম্মাননা জানায় শিল্পকলা একাডেমি। তাকে ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বললেন, ‘যিনি সুরকে করেছেন সাধনা, সাধনাকে করেছেন জীবন, আর জীবনকে উৎসর্গ করেছেন সঙ্গীতের চিরনতুন সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে—বাংলাদেশের সেই প্রিয় শিল্পী রুনা লায়লার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। আপনার অসামান্য সংগীত সাধনা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাংস্কৃতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং আগামী প্রজন্মের প্রেরণার উৎস হিসেবে স্বীকৃতিস্বরূপ আপনাকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করতে পেরে আমরা গর্বিত।’
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘সময় এসেছে, তরুণদেরকে প্রকৃত সংগীতের দিকে টেনে এনে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার।’ এক্ষেত্রে রুনা লায়লা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, সংগীতকে কেবল আনন্দের উৎস হিসেবে না দেখে, মানুষের চিন্তা গঠন এবং সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে দেখতে হবে।’ আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।
দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠান। অভিনেতা আফজাল হোসেনের সঞ্চালনায় একে একে গান শোনান রুনা লায়লা। গানের ফাঁকে চলে আফজাল হোসেনের সঙ্গে আলাপ। রুনা লায়লা বললেন, ‘আমার ৭৪ বছর বয়স। তবুও লাইভ গাইতেই পছন্দ করি। কারণ ঠোঁট মেলাতে গেলে কোথায় থামব, আর ধরব- ভুলে যাই।’ এরপরই তিনি গাইতে শুরু করেন ‘যখন থামবে কোলাহল’ গানটি। দর্শক সারিতে তখন পিনপতন নিরবতা।
গান আড্ডার এক পর্যায়ে আফজাল হোসেন বললেন, খুশবন্ত সিং একবার বলেছিলেন, ‘আমাদের রুনা লায়লাকে দিয়ে দাও। আমরা ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে দেব’। পাশে দাঁড়িয়ে রুনা লায়লা বললেন, ‘আমি যাইনি। এইখানেই থাকব।’
এরপর গান আর কথামালায় মেতে ওঠে এই সংগীতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে রুনা লায়লা গেয়ে, ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’, ‘অনেক বৃষ্টি ঝরে তুমি এলে’, ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’সহ বিখ্যাত সব গান। দর্শক সারিও তখন ভেসে যায় কালজয়ী এই শিল্পীর সুরের খেয়ায়।
আফজাল হোসেন যখন জানতে চান, জীবনে কোনো অপূর্ণতা আছে কিনা? রুনা লায়লা বললেন, ‘আমি মনে করি না, এই জীবনে এর চেয়ে বেশি লাগবে। অনেক বেশিই পেয়েছি। আল্লাহর কাছে আমি চাই, আরও যেন গাইতে পারি।’ এভাবেই গান ও কথামালায় মেতে ওঠে দুই ঘণ্টাব্যাপি রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের আয়োজক শিল্পকলা একাডেমি জানায়, এই সংগীতানুষ্ঠানের টিকেট বিক্রি হতে সংগৃহীত অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে দেওয়া হবে।





