‘বিভক্ত’ উদীচী: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও পৃথক আয়োজন

২৩তম জাতীয় সম্মেলনে উদীচীর শোভাযাত্রা। ফাইল ছবি
কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়া বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও পালন করতে যাচ্ছে পৃথক আয়োজনের মধ্য দিয়ে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তেইশতম জাতীয় সম্মেলনে কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়ে উদীচী। দুই পক্ষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পৃথক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে দুই কমিটিই উদীচীর ব্যানারে পৃথক অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে।
ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও এবার দুই অংশ রেখেছে পৃথক কর্মসূচি। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আয়োজন করেছে একটি অংশ। অপর অংশের আয়োজন রয়েছে সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে।
উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদ একাংশের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন আগামীর সময় বলেন, ‘আমরা তো বিভক্তি চাই না। আমরা ঐক্য চাই। আমাদের অগ্রজেরা ঐক্যের চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন।’
অপর অংশের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে আগামীর সময়কে বলেন, ‘বিভক্তি দূর করার জন্য চেষ্টাতো আমরা করছি। কিছু সময় ধরে যেহেতু বিভক্তি হয়েছে, তেমন মিনিমাম সময় তো লাগবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য। কাজের চিন্তা এবং দর্শনগত যে ঐক্য, সেই ঐক্যের জায়গাতে যাওয়ার জন্য বসা দরকার, কথা বলা দরকার। আশা করি, অবশ্যই একটা ঐক্যবদ্ধ জায়গাতে আসব। সময় এবং দেশের পরিস্থিতিকে ওভারকাম করার জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম প্রয়োজন।’
১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গান-নাচ-কবিতা-নাটক-চলচ্চিত্রের মতো সৃজনশীল মাধ্যমকে হাতিয়ার করে সমাজের নানা অসঙ্গতি, শোষণ-বঞ্চনা-অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে চলেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতি দুই বছর পরপর জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করে আসছে উদীচী।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে যা থাকছে
প্রতিষ্ঠার ৫৮তম বার্ষিকী উদযাপন করতে ২৯ ও ৩০ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি আয়োজন করেছে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের একাংশ। তাদের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘সংগ্রাম শুরু করো মুক্তির, দিন নেই তর্ক ও যুক্তির।’
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন উদীচীর পতাকার রূপকার শিল্পী আনোয়ার হোসেন। এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে আসবে। এরপর বিকাল ৪টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে শুরু হবে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের শতবর্ষ উপলক্ষে সেমিনার।
দ্বিতীয় দিন, শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রবীন্দ্র সরোবরে শুরু হবে উদীচীর নবীন-প্রবীণ কর্মীদের পুনর্মিলনী। এরপর বিকাল ৫টা থেকে থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পর্ব। সেখানে উদীচীর শিল্পীদের পরিবেশনা ছাড়াও থাকবে দেশবরেণ্য শিল্পীদের একক ও সমবেত গান, আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনা।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উদীচীর অপর অংশের আয়োজনের প্রতিপাদ্য– ‘ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, এবার আমি গোলাপ নেব’। ওই দিন বিকেল ৪টায় উৎসবের উদ্বোধন করবেন চা-শ্রমিক নেত্রী খায়রুন আক্তার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে সংবর্ধনা জানানো হবে উদীচীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বদরুল আহসান খান এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সংগীত দলের সদস্য তাজিম সুলতানাকে।
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের (একাংশ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপনের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে থাকবেন বাউল শেখ জামাল উদ্দীন (টুনটুন ফকির), সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফি রতন, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের নির্বাহী সদস্য লেখক ও গবেষক জাকির হোসেন এবং লেখক ও গবেষক সুতপা বেদজ্ঞ। আলোচনা, সম্মাননা প্রদান ছাড়াও থাকছে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটকসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।



