কচি-কাঁচার মেলার সাত দশক পূর্তি উৎসব শুরু

সংগৃহীত ছবি
ঐতিহ্যবাহী শিশু-কিশোর সংগঠন কচি-কাঁচার মেলার সাত দশক পূর্তি উপলক্ষে সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী আনন্দোৎসব। শুক্রবার দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে আসা শিশু-কিশোর, সংগঠক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। দেয়ালপত্রিকা প্রদর্শনী, বাংলা বর্ণমালা বিষয়ক কর্মশালা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় উৎসবের প্রথম দিন।
১৯৫৬ সালের ৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত কচি-কাঁচার মেলা দীর্ঘ সাত দশক ধরে শিশু-কিশোরদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে কাজ করে আসছে।
সকালে দেয়ালপত্রিকা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। দেশের বিভিন্ন শাখার মেলা থেকে আসা ভাইবোনদের তৈরি দেয়ালপত্রিকায় শিশু-কিশোরদের চিন্তা, সৃজনশীলতা, সাহিত্যচর্চা ও চিত্রকর্মের নানা দিক উঠে আসে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে রাজেন্দ্রপুর অগ্নিবীণা কচি-কাঁচার মেলা। দ্বিতীয় হয় কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা এবং তৃতীয় স্থান পায় মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় বাংলা বর্ণমালা বিষয়ক কর্মশালা। এটি পরিচালনা করেন শিল্পী, নকশাবিদ ও বাংলা হরফ গবেষক সব্যসাচী হাজরা। শিশু-কিশোরদের সামনে বাংলা বর্ণের ইতিহাস, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরেন তিনি। সময়ের সঙ্গে বাংলা বর্ণ কীভাবে পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান রূপ পেয়েছে, হরফের গঠন ও মুদ্রণের সঙ্গে এর সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়েও ধারণা দেন।
সাত দশক পূর্তি উপলক্ষে গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলায় ‘যুক্তিতে শাণিত হোক ভাবনা ও ভাষা’ স্লোগানে দু’দিনব্যাপী বিতর্ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কেন্দ্রীয় মেলাসহ মোট আটটি মেলার ৫৮ জন অংশ নেয়। কর্মশালার বাছাই পর্ব থেকে নির্বাচিত আটজন সেরা বিতার্কিককে নিয়ে গঠন করা হয় ‘কচি দল’ ও ‘কাঁচা দল’।
শুক্রবার বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল, ‘শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা উচিত।’ টসের মাধ্যমে পক্ষ ও বিপক্ষ নির্ধারণের পর দুই দলের বিতার্কিকেরা তথ্য, যুক্তি, পাল্টা যুক্তি ও খণ্ডনের মাধ্যমে বিষয়টির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রতিযোগিতায় ‘কাঁচা দল’ চ্যাম্পিয়ন এবং ‘কচি দল’ রানার্সআপ হয়। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন স্বস্তিকা সাহা মন।
চ্যাম্পিয়ন ‘কাঁচা দল’-এর সদস্যরা হলেন দলনেতা নিহারা চক্রবর্তী, ফাইরুজ ইসলাম, সুদেষ্ণা সাহা দুষ্টু ও অভিরূপ চৌধুরী। রানার্সআপ ‘কচি দল’-এর সদস্যরা হলেন দলনেতা আরিয়ান চৌধুরী, নূরুননাহার জারিফা, চিত্রিতা সরকার ও স্বস্তিকা সাহা মন।
বিতর্কের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক সমিতির সক্রিয় বিতার্কিক সুস্ময় চক্রবর্তী। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিতার্কিক, একাডেমিক প্রশিক্ষক ও আবৃত্তিশিল্পী লাবণ্য মল্লিক।
কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার সভাপতি খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান দেয়ালপত্রিকা প্রদর্শনী, বাংলা বর্ণমালা বিষয়ক কর্মশালা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ভাইবোনদের অভিনন্দন জানান। শিশু-কিশোরদের সমৃদ্ধ আগামী গড়ে তুলতে শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির চর্চায় আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিকেলে সারাদেশের শাখা মেলার ভাইবোনদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন শাখা থেকে আসা শিশু-কিশোরদের গান, নৃত্য ও আবৃত্তিসহ নানা পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সাত দশক পূর্তির উৎসব।
দু’দিনব্যাপী আয়োজনের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকালে রয়েছে স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন। বিকেলে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কচি-কাঁচার মেলার সাত দশক পূর্তির এ আয়োজন শেষ হবে।




