গুপ্তচরবৃত্তি করতে গিয়ে ধরা: ভারতীয় নাগরিক এবার ৩ দিনের রিমান্ডে

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে এসে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর পুনরায় তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুর আলম। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন ও হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল মোমেন মিয়া রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১ অক্টোবর আদালত জিজ্ঞাসাবাদে তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টের জন্ম তারিখের গড়মিল আছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ আছে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রবিউল স্বীকার করেন, প্রায় ১০-১২ বছর যাবত তিনি বাংলাদেশে একাধিকবার যাতায়াত করেছেন। যাতায়াতের সময় কখনো ট্যুরিস্ট ভিসা, কখনো বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বেশিরভাগ সময় ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে ব্যবসায়িক কাজের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি করতেন। এভাবে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে আসছেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। গত ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কাজে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন।
আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি রবিউলের বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩, ৩এ, ৪, ৫ এবং ৯ ধারার অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের উপপরিদর্শক বিনয় কুমার রায় তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গত ১ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সরকারি গোপন আইনে মামলা হয়। পুলিশের গোয়েন্দা রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার পর তাকে প্রথমে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।





