ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে তথ্য পাচার করতেন ভারতীয় নাগরিক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলাম। বাংলাদেশে এসে তিনি গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন। তিনি ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে সরকারি গোপন আইনে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে। গোয়েন্দা রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রবিউল ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ রয়েছে। তার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টে জন্ম তারিখেও গড়মিল পাওয়া গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল স্বীকার করেছেন, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। কখনো ট্যুরিস্ট ভিসায়, আবার কখনো ব্যবসায়িক ভিসায় তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, বেশির ভাগ সময় ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের আড়ালে তিনি গুপ্তচরবৃত্তি করতেন এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থানকালে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহায়তা করার অভিযোগও আনা হয়েছে ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগে রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩, ৩এ, ৪, ৫ ও ৯ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে রবিউলকে ২৩ সেপ্টেম্বর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের উপপরিদর্শক বিনয় কুমার রায় তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে আবার চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।





