রামিসা হত্যা মামলার রায়
ডেথ রেফারেন্স দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। ছবি : সংগৃহীত
শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতে আসার পর তা দ্রুততম সময়ে শুনানির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে যত দ্রুত সম্ভব আপিল নিষ্পত্তিরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আজ রবিবার সকালে মামলাটির রায় প্রকাশের পর নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে আমাদের অবস্থান হচ্ছে, রেকর্ড প্রাপ্তির পর আমরা আমরা চেষ্টা করব দ্রুততম সময়ে মামলাটি শুনানির ব্যবস্থা করতে। সেক্ষেত্রে হয়তো পেপারবুক করতে হতে পারে। হয়তো প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার প্রয়োজন হতে পারে। তার বিশেষ নির্দেশনার প্রয়োজন হতে পারে।
‘কিন্তু দ্রুততম সময়ে শুনানি করতে প্রাসঙ্গিক যে কাজগুলো আছে, সে কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে’, যোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা বলছেন, নাগরিকের দ্রুত সুবিচার পাওয়া, বিচার সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব, সে দায়িত্ব সবাই পালন করবেন। আজকে রামিসার বিষয়টা আমাদের অতিরিক্ত পীড়া দিয়েছে।
রায় কার্যকরের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্যাখ্যা, রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অর্গানের দায়িত্ব হচ্ছে প্রত্যেকটি ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা। সমস্ত বিচারের ক্ষেত্রে আমার একই রকম অবজারভেশন থাকবে।
এদিন বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং ১১টা ৩৫ মিনিটে রায় পড়া শেষ করেন।
রায়ে বলা হয়েছে, আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে দণ্ড কার্যকরের আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে। ট্রাইব্যুনাল মামলার নথি দ্রুত হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ইচ্ছা করলে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।
গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ রবিবার রায়ের তারিখ ধার্য করেন। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে। আসামিপক্ষের আইনজীবী অপেক্ষাকৃত কম শাস্তির আবেদন করেন।
শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। মামলাটি দায়েরের চার দিনের মাথায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
গত মঙ্গলবার এক দিনে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।





