মনের প্রত্যাশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে, রায়ের পর রামিসার বাবা

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ‘ভি সাইন’ দেখিয়েছেন রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। ছবি : আগামীর সময়
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাবা ও মামলার বাদী আবদুল হান্নান মোল্লা।
রবিবার (৭ জুন) রায় ঘোষণার পর দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি আব্দুল হান্নান দ্রুত এ রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ‘ভি সাইন’ দেখিয়ে আবদুল হান্নান মোল্লা বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, রায়ে আমি শতভাগ খুশি। এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্খা সেটা পূরণ হয়েছে।’
‘ইনশাআল্লাহ আমি শতভাগ আশাবাদী, রায় দ্রুত কার্যকর হবে। আল্লাহ পাকের রহমত ও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সময়ের মধ্যে আমরা কাঙ্খিত রায় পেয়েছি’, যোগ করেন রামিসার বাবা।
এর আগে, এ রায় শুনতে এদিন সকালে আদালতে আসেন রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন এই রায় দেন। আলোচিত এই মামলার ১৯ দিনের মাথায় বিচার প্রক্রিয়া শেষে এই রায় দিলেন আদালত।
রায়কে কেন্দ্র করে এদিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং এর কিছুটা আগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়।
গত ১৯ মে দিবাগত রাত ১২ টা ৫ মিনিট অর্থাৎ ২০ মে মামলা দায়েরের পর ৫ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
ওইদিনই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত বলে মত দেন এবং তা ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইদিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
এরপর ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হলেও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে বিচারিকের ছুটি বাতিল করে এ মামলাটির শুনানির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১ জুন আদালত দুই আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন। একইসঙ্গে পরেরদিন মামলার বাদীসহ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
পরবর্তীতে ২ জুন মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন। আদালত এক দিনেই সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিচারক ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দায় স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। শুনানি শেষে বিচারক ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।
৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক আজকের জন্য রায়ের দিন ধার্য করেন।






