সাবেক যুগ্মসচিব জগলুল পাশা সাত দিনের রিমান্ডে
- বালুর ট্রাককাণ্ডের মূল পরিকল্পনায় ছিলেন জগলুল পাশা : পিপি ফারুকী
- জগলুল পাশা কোনো রাজনীতি করেননি : আসামিপক্ষের আইনজীবী

সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা। ছবি : আগামীর সময়
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে তার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা, পেপার স্পে করার মামলায় সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন আসামি পাশাকে পুলিশ প্রহরায় আদালতে তোলা হয়। এসময় তার মাথায় হেলমেট, গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতে হাতকড়া ছিল। পরে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দিলে তিনি কাঠগড়ায় সামনে গিয়ে দাঁড়ান। তার উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন।
এসময় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরে (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী উল্লেখ করেন, গুলশানের বাসভবন থেকে যাতে খালেদা জিয়া বের হতে না পারেন, সেজন্য বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে রাখা হয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমদানি করা পেপার স্প্রে নিক্ষেপ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এসব ঘটনার মূল পরিকল্পনায় ছিলেন জগলুল পাশা। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত বিষয় উন্মোচিত হবে। তার দেওয়া তথ্যেই সবকিছু স্পষ্ট হবে, এ ঘটনায় কারা জড়িত ছিল।
এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, তার ৭১ বছর জীবনে কখনো রাজনীতি করেননি। ঘটনার সময় তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ছিলেন। ২০১৫ সালের ২ মার্চ অবসর নেন। তিনি রাজনীতি করলে যুগ্মসচিব হয়ে অবসর নেওয়ার কথা না। সচিব হয়েই অবসরে যেতেন। কখনো রাজনীতি করেননি। তিনি কোনো দল করেন না বলেই যুগ্মসচিব থেকেই অবসরে যেতে হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, মামলার ঘটনার বিষয়ে তিনি (আসামি) কিছুই জানেন না। ঘটনাস্থলে যাননি। এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। রিমান্ডে নিয়ে আসলে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য পাওয়া যাবে না। তাই তাকে রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।
এসময় পিপি ফারুকী ফের বক্তব্যে জানান, আসামি পাশার তত্ত্বাবধানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জাল নথি তৈরি করা হয়েছিল। সেই মামলায় মিথ্যা সাক্ষীও দিয়েছেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন৷ তবে শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসতে থাকেন তিনি। আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথেও তার মুখে হাসি দেখা গেছে। তবে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
এর আগে মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে বসুন্ধরার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। ওইদিন তাকে কারাগারে পাঠিয়ে বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার এজাহারনামীয় ১১১ আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ২৫০/৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে অবস্থান করে সারা দিন থাকেন। দিনভর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করেন।
আসামিরা রাস্তার উপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করে রাস্তা বন্ধ করেন। জনসাধারণের চলাচলে এবং খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগদান করতে না পারেন সেজন্য রাস্তার উপর ত্রাস সৃষ্টি করেন। গণতন্ত্র অধিকারকে হরণ করে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার সময় খালেদা জিয়া তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেন এবং রাস্তার আশপাশে বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড করেন।
খালেদা জিয়া বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও আসামিরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন এবং হত্যার উদ্দেশ্য নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।







