তিন দফায় রিমান্ডে ‘নীরব’ ছিলেন দ্বীপ, দিলেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় উত্তরখান থানায় করা হত্যা মামলায় ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে নৌপুলিশ বলছে, আসামি দ্বীপ মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দ্বীপ অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যান এবং চুপ ছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তিন দফায় ১০ দিনের রিমান্ডে আসামি দ্বীপকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওইদিনের ঘটনার বিষয়ে দ্বীপ বলেছেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান তিনি। তারা একই সঙ্গে মোটরসাইকেল গ্যারেজে যান এবং মোটরসাইকেলের কাজ করান। আরেক আসামি জেরিকা তাসনিম দিশাকে নিয়ে তারা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টারে স্ন্যাকস খান। রাতের বেলা নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টেুরেন্টে গিয়ে তিনজন বিয়ার ও ধূমপান করেন। একপর্যায়ে আসামি দিশা বাসায় চলে যায়। পরবর্তী সময়ে তাহসিফ ও দ্বীপ রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে টঙ্গী মাজার বস্তিতে পৌঁছান। তারা বস্তির ভেতর দিয়ে তুরাগ নদের তীরবর্তী একটি মাঠে যান। সেখানকার কয়েকজনকে দেখে তারা পরস্পর আলাদা হয়ে যান।
এদিন তিন দফায় রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে আসামিপক্ষে আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ প্রথমবারের মতো জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে দ্বীপকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে গত ৩ ও ৫ নভেম্বর দুই দফায় তিন দিন করে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ ছাড়া গত ১ নভেম্বর এই মামলায় আরেক আসামি জেরিকা তাসনিম দিশার চার দিন ও গত ৪ নভেম্বর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে গতকাল শুক্রবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর কে এম তাহসিফ সাউরি আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার পর দ্বীপ নামে তার এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বাইরে যায়। রাত বেশি হলেও তিনি ফিরে না আসায় তার মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরবেন। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার ফোন থেকে মায়ের ফোনে ভয়েজ মেসেজ পাঠানো হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’।
কিন্তু রাত পেরিয়ে পরের দিন বিকাল হলেও তিনি ফিরে আসেননি। গত ২৮ অক্টোবর বিকাল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে উত্তরখান থেকে নৌপুলিশ ফোনের মাধ্যমে তাহসিফের বাবাকে জানায়, রাজারবাড়ি ঘাট উত্তরখান এলাকাতে তুরাগ নদ থেকে তার সন্তানের মরদের উদ্ধার হয়েছে। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর নৌপুলিশ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। গত ২৯ অক্টোবর বিকালে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।





