চিফ প্রসিকিউটর
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গনে ব্রিফিং করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন— ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
২০১৮ সালে ছাত্র আন্দোলনের সময় রাশেদ খাঁনকে (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী) গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নির্যাতনের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর জানালেন, রাশেদ খাঁন যে অভিযোগ দিয়েছেন, এরই মধ্যে এটা ইনভেস্টিগেশন করা হচ্ছে। এটা ‘পার্ট অব ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক অফেন্স’ এবং এটা ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ।
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বড় পরিসরে আন্দোলন হয় ২০১৮ সালে। ওই আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের অন্যতম তৎকালীন ছাত্রনেতা মো. রাশেদ খাঁন। আজ বুধবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান তিনি।
পরে সাংবাদিকদের রাশেদ খাঁন বলেন, ‘২০১৮ সালের ১ জুলাই রাজধানীর ভাসানটেক থেকে আমাকে গ্রেপ্তার করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদ আমার হাত-পা ও চোখ বেঁধে এবং মুখে গামছা পেঁচিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট নির্যাতন করেন।’
তার ভাষ্য, ২০১৮ সালের আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল; যে মামলার বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না।
রাশেদ বললেন, ‘আমাকে ১৫ দিন রিমান্ডে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার নির্দেশনা ছাড়া এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ এ কাজ করতে পারেন না।’
তার দাবি, যুবদলের নেতা মোস্তাফিজসহ আরও অনেককেই একইভাবে নির্যাতন করেছিলেন ইশতিয়াক।
এর আগে চলতি বছরের ৭ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের কাছে একটি অভিযোগ দেন রাশেদ খাঁন। এ বিষয়ে রাশেদ বলছিলেন, ‘আগের চিফ প্রসিকিউটরের পরামর্শেই থানায় মামলা করে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছি, যা পরে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।’
এ সময় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানালেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অনেককেই তুলে নিয়ে অত্যাচার-নির্যাতনের অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে একটি নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’ বা পদ্ধতি তারা দেখতে পেয়েছেন।
‘যেহেতু তিনি (ইশতিয়াক) একাধিক ঘটনা একইভাবে সংঘটিত করেছেন, তাই এটি অবশ্যই ব্যাপক ও পদ্ধতিগত অপরাধের (ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক অফেন্স) একটি অংশ’, যোগ করেন তিনি।
এ সময় এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে মাওলানা আলামিন নামে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে গুম ও হত্যার আরেকটি অভিযোগের কথাও চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘মাওলানা আলামিনকে অপহরণের পর দীর্ঘদিন হেফাজতে রেখে হত্যা করে গুম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই ঘটনায় ইশতিয়াক আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দাখিল করা হয়েছে।’



