গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল, রিমান্ডে আরও ১৫ আসামি

বুধবার রিমান্ড শুনানী শেষে আদালত থেকে বের করা হয় আসামিদের—ছবি : আগামীর সময়
রাজধানীর গুলশানে মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৫ নেতাকর্মীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা।
আসামিরা হলেন—নিরব খান, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. জুয়েল শিকদার, মো. সায়েম, মিরাজ শেখ, মো. হারুন মাইজভান্ডারী, মো. মাহমুদ ফয়সাল, মো. সফিকুর রহমান, বিল্লাল গাজী, ইসমাইল সিরাজী, মো. আমিরুল রহমান, মো. ইসমাইল আলম, জয়নাল আবেদীন মামুন, জয়ন্ত কুমার বাউড়ি ও মো. মোজাম্মেল হক।
এদিন গ্রেপ্তার ১৫ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানিতে রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর গুলশান বিভাগের বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয় আসামিদের। ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিন। ওইদিন আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
দুই বছর আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তার মধ্যেই দলটির নেতা-কর্মীরা বিক্ষিপ্ত মিছিলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে এমনই একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। সেই মিছিলে দেড়শ থেকে দুইশ জন অংশ নেন বলে গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেন জানিয়েছিলেন।
পুলিশ ওই সময় ধাওয়া করে ও রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় মিছিল থেকে হাতবোমা ছোড়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়।
মিছিলের ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। এতে ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮০/১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গুলশানে সমবেত হয়েছিলেন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করেন।
মিছিলকারীরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলে দাবি করা হয় মামলার এজহারে। এতে বলা হয়, পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল ছোড়া হয়েছিল। পুলিশ পাঁচটি ককটেল জব্দও করে।





