এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ : সুপারভাইজার-হেল্পারের দায় স্বীকার, চালক রিমান্ডে

অভিযুক্ত সুপারভাইজার সাজু লস্কর এবং হেলপার মাহবুব আলম মনির। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার সুপারভাইজার ও হেলপার আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত ব্যক্তির নাম ইসমাইল হোসেন। অভিযুক্ত সুপারভাইজার সাজু লস্কর এবং হেলপার মাহবুব আলম মনির।
আজ রবিবার ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একইসঙ্গে বাসচালক সোহেল রানার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি এ তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আসামি সাজু ও মনির স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বনানী থানার এসআই নজরুল ইসলাম তালুকদার।
পাশাপাশি আসামি সোহেলের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর আসামি সাজুর এবং ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ আসামি মনিরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া শুনানি শেষে আসামি সোহেলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. হাসান বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে ইসমাইল হোসেন জামালপুর থেকে গাজীপুরের বাসায় আসার জন্য রওনা দেন। এসময় গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য সঙ্গে নিয়ে বাসে উঠেন। তার আসার খবরে ছেলে মো. হাসান গাজীপুর জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে থাকেন। তবে বাবার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর কলে তিনি বন্ধ পান। পরে সকাল ১০টা পর্যন্ত জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করে বাসায় চলে যান।
দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার বনানী থানা থেকে প্রতিবেশী মন্টুকে ফোন করে জানানো হয়, ইসমাইল হোসেনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। পরে মৃতদেহের ছবি দেখে শনাক্ত করেন ছেলে হাসান। তিনি জানতে পারেন, বনানী থানাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী থেকে কুড়িলগামী রাস্তার ১৭৯ ও ১৮০ নং পিলারের মধ্যবর্তী এক্সপ্রেসওয়েতে তার পিতাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছে। কিন্তু সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা কোন মালামাল পায়নি।
তার পিতার শরীরে জখমের চিহ্ন এবং নাক, মাথা ও ডান হাতের কব্জি সাদা টেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল।






