৭ মামলায় জামিনের পর ফের গ্রেপ্তার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হেলাল

সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন মিয়াজী
রাজধানীর পল্টন মডেল থানার হত্যাচেষ্টার মামলায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখান। এরপর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানান, আসামি হেলাল ইতোমধ্যে সাত মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে নতুন করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। অথচ সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া যাতে তাকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করা হয় এই বিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট রুলসহ ডিরেকশন দিয়েছেন। কিন্তু আদালত আইনগত কোনো বিষয় আমলে না নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিন কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি শুরু হয়।
এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে পল্টন মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আবু সালেহ তাকে হত্যাচেষ্টার এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল মুশফিকুর রহমান আবির বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কলাবাগান এলাকায় প্রচারণা চলতে থাকে। মামলার বাদী প্রচারণা শেষে বাসায় ফেরার পথে কলাবাগান লেক সার্কাস ১ নম্বর রোডের মাথা থেকে আসামিরা বাদীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে এলোপাতাড়ি চড়, থাপ্পড়, কিল, ঘুষি মারা শুরু করলে বাদী বেহুঁশ হয়ে পড়েন। এরপর বাদীকে হাজারিবাগের একটি ট্যানারি গোডাউনে আটকে রেখে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। এরপর বাদীর পিতার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে নেয় এবং পরের দিন ৫ ডিসেম্বর সকালে বাদীকে তারা ছেড়ে দেন।
পরবর্তী সময়ে বাদী জানতে পারেন তারা ছিলেন মেয়র তাপসের সন্ত্রাসী বাহিনী। বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর সকাল থেকেই নয়াপল্টন স্লোগানে মুখোরিত হয়ে উঠতে থাকে এবং সেখানে বাদী যোগ দেয়। সমাবেশ পণ্ড করতে ওইদিন হঠাৎ হামলা শুরু করে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য সহযোগীরা। সমাবেশ স্থলে সরাসরি গুলি টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ শুরু হয়। সাধারণ নেতা কর্মীরা দিশেহারা হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে।
বাদী সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কলাবাগানে নিজ বাসায় ফিরে আসেন। তার একদিন পরেই স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বোচ্ছাসেবক লীগের সন্ত্রাসীরাসহ আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বাদীর বাসায় ভাঙচুর, লুটপাট করে এবং তার অসুস্থ শরীরে অমানবিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে বাদী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর বাদী নিজেকে কলাবাগান থানা হাজতে দেখতে পান। সেদিন রাতেই বাদীর বাবার সঙ্গে তখনকার দায়িত্বরত ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কথা বলেন এবং বাদীর বাবার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। একই সঙ্গে নানান রকম হুমকি দেয়। পরের দিন কোর্টে চালান করার পর রিমান্ডে চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ ২২ দিন অসুস্থ শরীরে জেল খেটে জামিন পান তিনি।



