পরীমণি কাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

এডিসি সাকলায়েন ও পরীমণি- ফাইল ছবি
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গোলাম সাকলায়েন ডিবি গুলশান বিভাগে কর্মকালীন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন।
তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক। তা সত্ত্বেও পরীমণির সঙ্গে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, একসঙ্গে জন্মদিন উদযাপন ও সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।
এতে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী দিয়ে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।
২০২৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগনামার জবাব দিয়ে ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন সাকলায়েন। একই মাসের ২৮ তারিখে তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কারণ দর্শানোর জবাব, ব্যক্তিগত শুনানি এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় গুরুদণ্ড আরোপের সম্ভাবনা থাকায় অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(২)(ঘ) মোতাবেক ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর ভিত্তিতে এডিসি সাকলায়েনকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি ২০২৪ সালের ১০ মার্চ দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাই সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক তাকে চাকুরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ সূচক শাস্তির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ভিত্তিতে পরামমর্শের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (বিপিএসসি) অনুরোধ জানানো হয়। পরে তাকে চাকুরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিষ্ঠানটি। তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার বিষয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলতি বছরের ১৭ জুন অনুমোদন করেন।




