মাগুরায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার পেপারবুক প্রস্তুত

সংগৃহীত ছবি
মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন) শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি ছাপাখানা (বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়-বিজি প্রেস) থেকে ছাপানো সেই পেপারবুক আজ সোমবার হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছেছে।
ডেথ রেফারেন্স শাখার এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিগগিরই হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে বলে জানা গেছে।
বিচারিক আদালত কোনো অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ডেথ রেফারেন্স। রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায়সহ মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় দণ্ডিত আসামি বা আসামিদের আপিল। ডেথ রেফারেন্স ও আপিল ক্রমানুসারে সাজিয়ে তৈরি করা হয় পেপারবুক। হাইকোর্ট এই পেপারবুকের ভিত্তিতেই মামলা নিষ্পত্তি করে থাকেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাগুরার চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলাটির রায় হয় গত বছর ১৭ মার্চ। এরপর ওই বছরের মে মাসের শেষদিকে মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। আর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দণ্ডিত হিটু শেখ। এরপর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পেপারবুক তৈরির জন্য মামলার যাবতীয় নথি বিজি প্রেসে পাঠায়। ছাপার কাজ শেষে সম্প্রতি তা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়।
গত বছর ৬ মার্চ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। ধর্ষণকারী হিটু শেখ শিশুর বোনের শ্বশুর। এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনার সাত দিন পর, ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যায় শিশুটি। গত বছর ১৩ এপ্রিল চাঞ্চল্যকর এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরে ২৩ এপ্রিল হিটু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় (ধর্ষণের ফলে মৃত্যুর অপরাধ), শিশুটির বোনের স্বামী ও ভাশুরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার দ্বিতীয় অংশে (ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং বোনের শাশুড়ির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (অপরাধের আলামত নষ্টের অভিযোগ) অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। সব মিলিয়ে ঘটনার ২ মাস ১১ দিনের মাথায় মামলাটির রায় হয়। রায়ে মামলার মূল আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। মামলার বাকি তিন আসামি— শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়। এর পরই ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
এই মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি অপেক্ষমাণ থাকার মধ্যে গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে একটি ভবনের ফ্ল্যাটে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় গত রবিবার মামলার রায় দেন বিচারিক আদালত। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করবেন। আগামী রবিবার থেকে এই বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু হবে।




