পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি বুধবার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো আপিল শুনানি শেষ হয়েছে আজ মঙ্গলবার। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই শুনানি বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেন।
আপিল শুননিতে অংশ নেন সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া ও জামায়াত ইসলামীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানিতে পুরো সংশোধনীই বাতিল চেয়েছেন আপিলকারীর আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। সকালে শুনানি শেষে তিনি বলেন, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পঞ্চদশ সংশোধনী প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সাথে প্রতারণা করা হয়েছিল। তবে শুনানিতে তিনি ৯৬ ও ১০২ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা চেয়েছেন।
শুনানিতে শিশির মনির বলেছেন, এই সংশোধনীতে দুই ধরনের বিষয় আছে। এক ধরনের বিষয় নীতিগত বা ফান্ডামেন্টাল প্রিন্সিপাল অব স্টেট পলিসি। আমরা বলেছি, নীতি-নির্ধারণী ব্যাপার যেগুলো, সেগুলো সংসদের দায়িত্ব। একটা বিতর্ক করে সাংবিধানিক বিলের মাধ্যমে কোনটা একসেপ্ট করবে, কোনটা করবে না— এই দায়-দায়িত্ব পার্লামেন্টের। আদালতের সেখানে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আদালত যদি সেই অংশে হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে সংসদের যে দায়িত্ব আছে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা, এটি খর্ব করা হয়।
তার মতে, আদালতের কখনো সুপার লেজিসলেটরের ভূমিকা পালন করা উচিত নয়। আদালত যদি কোনো নীতিগত কিংবা কোনো রাজনৈতিক বিষয় সেটেল করতে যায়, তাহলে একটা বড় বিতর্কের সম্মুখীন হতে হয়। আমরা এটাও বলেছি, এই বিতর্কে জড়ানো আদালতের কাজ না।
পাশাপাশি তিনি বলছেন, যে সব বিষয় বেসিক স্ট্রাকচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলোর ব্যাপারে উচ্চ আদালত যেন তার রায় প্রদান করেন।
এর আগে আলাদা দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় দেন। সেই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে সংশোধনীর বাকি অংশগুলো বহাল রেখেছিল হাইকোর্ট।
পরে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি। জামায়াতসহ বাকিরা পক্ষভুক্ত হয়। সেই আপিলের ওপরই এখন সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি চলছে।




