বুড়িগঙ্গার তীরের সব প্লাস্টিক অপসারণের নির্দেশ হাইকোর্টের

বুড়িগঙ্গা নদীর পানিদূষণ বন্ধে ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে থাকা সব প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কেউ নদীতে বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রবিবার এ আদেশ দেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি জানিয়েছেন, বুড়িগঙ্গার পানিদূষণ বন্ধে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট দায়ের করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে বুড়িগঙ্গার পানিদূষণ রোধে কয়েকটি নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।
পরবর্তী সময়ে বাদীপক্ষের সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর আদালত ওই নির্দেশনা অনুসারে লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে থাকা প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন।
বুড়িগঙ্গার ডলফিন
০৩ অক্টোবর ২০২৬
আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে প্রায় ৩০০ টন বর্জ্য অপসারণের কথা জানানো হলেও সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে ওই এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বন্ধে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা-ও প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদের ভাষ্য, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, প্রতিবেদনে তার উল্লেখ নেই। এ কারণে দাখিল করা প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
শুনানি শেষে বিআইডব্লিউটিএ ও বিবাদীদের সম্পূর্ণ প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।




