অটোরিকশা চালক হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

টোরিকশা চালক জুয়েলকে হত্যার দায়ে তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার কেরানীগঞ্জে অটোরিকশা চালক জুয়েলকে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের দায়ে তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে চোরাই অটোরিকশা কেনার দায়ে গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমানকে দেওয়া হয়েছে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
সোমবার এ রায় দেন ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন। এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজিব।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন আলী হোসেন, লুৎফর রহমান ও হাসান। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের দায়ে তাদের প্রত্যেককে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার আগে আলী হোসেন, লুৎফর রহমান ও হাসানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের আবার কারাগারে পাঠানো হয়। তবে আহমদুর রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর প্রতিদিনের মতো বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হন জুয়েল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার দিকে রুহিতপুর বাজারে অবস্থান নেয় আসামিরা। যাত্রীবেশে আলী হোসেন ও লুৎফর রহমান জুয়েলের অটোরিকশা ভাড়া করে তাকে ভাষানচর কাঠবাগানের দিকে নিয়ে যায়।
সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা হাসান ও এনামুল তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা জুয়েলের হাত-পা ও মুখ চেপে ধরে তাকে ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে যায়। এ সময় অটোরিকশায় বসে ছিল কিশোর এনামুল। পরে জুয়েলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আসামিরা। তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা এবং অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
জুয়েল বাড়িতে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে ধইঞ্চা ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় তার লাশ। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন জুয়েলের বোন সাবিনা।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং কিশোর এনামুলের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেয় পুলিশ। ২০২২ সালের ২৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেন আদালত। সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে সোমবার তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ছিনতাইয়ের দায়ে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় চোরাই অটোরিকশা কেনার দায়ে গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমানকে দেওয়া হয় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।








