‘ব্লেড বাবু’খুন চুরির টাকার ভাগবাটোয়ারায়
- নির্মাণাধীন ভবনের চোরাই তামার তার বিক্রির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব

রাজধানীর পল্লবীতে মঞ্জুরুল ইসলাম বাবু ওরফে ব্লেড বাবু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে আদালতে জমা পড়েছে অভিযোগপত্র। তদন্তে উঠে এসেছে, নির্মাণাধীন ভবনের চোরাই তামার তার বিক্রির টাকার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বেই তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে ১৫ জনকে। তবে আলোচিত মুসা শিকদারসহ ১০ জনের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার।
তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান মুন্সী বলেছেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনজনের নাম এলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সাতজনের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। এ কারণে ১০ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার মিম বলেছেন, ‘আমার সাত বছরের সন্তান রয়েছে। বাবা ছাড়া এখন আমাকেই মানুষ করতে হচ্ছে। আমার স্বামীকে যারা খুন করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমাকে যতই হুমকি দেওয়া হোক না কেন, আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত লড়ে যাব।’
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বাবুকে হত্যার পরদিন তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার পল্লবী থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বকর।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পল্লবী থানাধীন স্বপ্ননগর আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে রাজন, তুফান, রনি, সাইফুর, মুরাদসহ আরও কয়েকজন তামার তার চুরি করে বিক্রয় করেন। বিক্রির টাকার ভাগ ব্লেড বাবুকে কম দেওয়ার অভিযোগে তার সঙ্গে আসামিদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুর সঙ্গে তাদের মারামারি হয়। এ সময় রনি অন্য আসামি সাইফুলের কাছে থেকে চাকু নিয়ে বাবুকে রক্তাক্ত জখম করেন। অন্য আসামিরা বাবুকে কিলঘুসি ও ইট দিয়ে আঘাত করেন।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— রাজন ওরফে পিচ্ছি রাজন, আলামিন হোসেন রনি, সাইফুল ইসলাম, মো. মুরাদ, মো. ইরফান ওরফে তুফান, মাহাদী হাসান রাব্বি ওরফে কুত্তা রাব্বি, মো. সাজ্জাদ, শরিফ ওরফে ডাসা শরিফ, তোফায়েল হোসেন, মো. বাবু ওরফে ডাকাত বাবু, রাকিব, সুমন ওরফে জামাই সুমন, মো. তাসকিন, রাজিব হোসেন ও সজীব।
অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া আসামিরা হলেন— মুসা শিকদার, সুমন শিকদার, সালেহ শিকদার, গোলাক মোস্তফা কামাল বাপ্পি, দিপু, হানিফ বেপারি, শাওন, মারুফ, রফি, ইব্রাহিম ও রুমন। তাদের মধ্যে মুসা মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যা মামলার আসামি। এ মামলায় তাকে ওমান থেকে গ্রেপ্তার করে দেশে আনা হয়।



