২০৫০ সালে ৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে ঢাকার জনসংখ্যা

সংগৃহীত ছবি
রাজধানী ঢাকা যেন কোটি কোটি হৃদয়ের এক জীবন্ত জনসমুদ্র। তবে জীবিকার তাগিদ আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর এই মেগাসিটিতে যুক্ত হচ্ছে ৫ লাখ নতুন মানুষ। এভাবে বাড়তে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যা ৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সবশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা মেগাসিটির জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ, যা ঢাকাকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেগাসিটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই তালিকায় এখন শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা।
প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে জাকার্তাকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মেগাসিটির তালিকায় প্রথমে উঠে আসবে ঢাকা। তখন এই শহরের জনসংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখ।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, মেগাসিটির কোনো নির্দিষ্ট প্রশাসনিক সীমানা নেই। জাতিসংঘ যখন কোনো শহরের জনসংখ্যা হিসাব করে, তখন তারা শুধু প্রশাসনিক সীমানা দেখে না, বরং প্রতি বর্গকিলোমিটারে অন্তত ১ হাজার ৫০০ মানুষ বসবাসকারী নিরবচ্ছিন্ন শহুরে এলাকা বিবেচনা করে।
এই পরিমাপ অনুযায়ী ঢাকা মেগাসিটির মধ্যে সাভার, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুরের কিছু শিল্পাঞ্চল ও উপশহরগুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে।
অথচ প্রশাসনিকভাবে ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট জনসংখ্যা মাত্র ১ কোটি ৩ লাখের কাছাকাছি এবং পুরো ঢাকা জেলার জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ।
যদিও দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের মৌখিক দাবি অনুযায়ী, ভাসমান জনগোষ্ঠীসহ এই দুই সিটির জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামে কর্মসংস্থানের অভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ প্রতিনিয়ত ঢাকামুখী হওয়ায় মেগাসিটি ঢাকায় প্রতি বছর ৫ লাখ নতুন মানুষ যুক্ত হচ্ছে। এতে আবাসন, মশক নিধনসহ নানান নাগরিক সেবায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেছেন, ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বাধা তৈরি করছে। ২০৫০ সালে এই নগরের জনসংখ্যা ৫ কোটি ছাড়িয়ে গেলে তা রাজধানীর জন্য মানব বোমায় রূপ নেবে। এই সংকট সমাধানে এবং বর্ধিত জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে সরকারকে এখনই নতুন নগরনীতি ও টেকসই সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।




