শাহজালাল বিমানবন্দরে দর্শনার্থীকে সরানোর ঘটনায় আনসার বাহিনীর ব্যাখ্যা

সংগৃহীত ছবি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্যদের সঙ্গে এক দর্শনার্থীর অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পরে তাকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ‘আনসার সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হলো দর্শনার্থীকে’ শিরোনামে একটি ভিডিও ও ক্যাপশন প্রচার করা হয়।
ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় এক যাত্রীর স্বজন আগমনী গেটের পাশের নিষিদ্ধ স্থানে অবস্থান করছিলেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই এলাকায় সাধারণ যাত্রী বা স্বজনদের অবস্থান নিষিদ্ধ। এ কারণে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাকে সেখান থেকে সরে যেতে একাধিকবার অনুরোধ ও নির্দেশনা দেন।
তবে ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান করতে থাকেন এবং আগমনী গেটের ভেতরে বারবার উঁকিঝুঁকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে আনসার সদস্যরা তাকে আবার সরে যেতে বললে তিনি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, অশোভন মন্তব্য, গালাগালি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ঘটনাটি দায়িত্ব পালনরত অ্যাভসেকের এক কর্পোরালের নজরে এলে তিনি সেখানে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশ দেন। এ সময় তার সঙ্গে কর্পোরালের বাকবিতণ্ডা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে অ্যাভসেকের ওই কর্পোরাল কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের ওই ব্যক্তিকে আগমনী গেটের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, অ্যাভসেক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আনসার সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নিয়ে যান। পরে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাহিনীটি জানিয়েছে, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় নিরাপত্তা বিধি ও প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান করলে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আনসার সদস্যরা ওই ঘটনায় নিজেদের উদ্যোগে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। অ্যাভসেক কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা একপাক্ষিক ক্যাপশনের কারণে পুরো ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম বিচ্ছিন্ন ভিডিও বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।





