পাওনা নিষ্পত্তিতে ড. ইউনূসের উদ্যোগ চান গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা

বুধবার গ্রামীণ টেলিকম কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়
গ্রামীণফোনের ২০১০ থেকে ২০১২ সালের ৫ শতাংশ শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ/ডব্লিউডব্লিউএফ) বিলম্ব বকেয়া পাওনা দ্রুত ও আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মীরা। এ সময় পাওনা নিষ্পত্তিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গ্রামীণ টেলিকম কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা গ্রামীণফোন, গ্রামীণ টেলিকম, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল পক্ষকে নীরবতা পরিহার করে কার্যকর সংলাপে বসার আহ্বান জানান।
গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা বলেন, আমাদের পাওনা-সংক্রান্ত বিরোধ প্রায় ১৬ বছর ধরে অনিষ্পন্ন। অন্যদিকে দাবি আদায়ে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলন চলছে। এই সময়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে এখনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
গ্রামীণ টেলিকমের সামনে অবস্থান নেওয়ার কারণ তুলে ধরে সাবেক কর্মীরা বলেন, গ্রামীণফোনে গ্রামীণ টেলিকমের গুরুত্বপূর্ণ মালিকানা রয়েছে। গ্রামীণফোনের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ৩৪ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ারের মালিক গ্রামীণ টেলিকম। অন্যদিকে টেলিনর মোবাইল কমিউনিকেশনস এএসের মালিকানা ৫৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।
আন্দোলনকারীরা বলেন, গ্রামীণ টেলিকমের শেয়ার মালিকানা থাকার কারণে বিতর্কিত পাওনার ওপর স্বয়ংক্রিয় আইনগত দায় প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে—এমন দাবি তারা করছেন না। তবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও সমাধানের পরিবেশ তৈরিতে গ্রামীণ টেলিকমের ভূমিকা প্রত্যাশিত।
তারা প্রশ্ন তোলেন, গ্রামীণফোনে ৩৪ দশমিক ২০ শতাংশ মালিকানা থাকা অবস্থায় ১৬ বছর ধরে ঝুলে থাকা ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা নিষ্পত্তিতে অর্থবহ সংলাপ ও দ্রুত সমাধানের জন্য গ্রামীণ টেলিকম কী উদ্যোগ নেবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক কর্মীরা। সাবেক কর্মী শাকিলা মালেক বলেন, ‘১৬ বছর ধরে আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ড. ইউনূসের কাছে আমাদের বিনীত প্রশ্ন, আমাদের পাওনা নিষ্পত্তিতে তার ভূমিকা কোথায়? গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া পাওনা নিয়ে ১৬ বছর ধরে বিরোধ ও অপেক্ষা চলার পরও কার্যকর সমাধান না হওয়ার বিষয়ে ড. ইউনূসের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।’
আন্দোলনকারীরা তার প্রতি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংলাপে বসিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের বক্তব্য, এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; বরং ড. ইউনূসের প্রকাশ্য সামাজিক কল্যাণের দর্শনের আলোকে একটি উদ্যোগের আহ্বান।



