স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৯, মালামাল উদ্ধার

গুঁড়িয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্তমান চিত্র। ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল।
আজ রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানায় এ তথ্য।
ডিএমপি জানিয়েছে, মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় জানায়নি পুলিশ। এর আগে শনিবার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে তারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যান। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়েছে। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার মামলাটি করেন।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।
স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ধ্বংসস্তূপের সামনেই টিকাদান কর্মসূচি চালু রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে গেটের সামনে টেবিল-চেয়ার ও ত্রিপল টাঙিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেওয়ায় খোলা জায়গায় টিকাদান কার্যক্রম চালাতে হয়। এতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি টিকা নিতে আসা শিশু ও তাদের অভিভাবকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
টিকাদান কর্মসূচিতে দায়িত্ব পালন করা প্যারামেডিক মোছা. ফারজানা বলেছিলেন, ‘পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমরা সেবা দিয়ে যাব।’
এদিকে শনিবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘লুটের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।’
মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, মামলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬







