স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর : গ্রেপ্তার ৪, পুলিশের গাফিলতিও তদন্তে

ঢাকার মিরপুরে রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশের কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভাঙচুর করা হয় বেসরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। আজ শনিবার সকালে সেখানে গুঁড়িয়ে দেওয়া ভবনের সামনে ত্রিপল টানিয়ে হামের টিকাদান চলে।
শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম আজ দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, ভাঙচুরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)। তাদের আজ বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে বিকালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনে গিয়ে ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, এই ঘটনা তদন্তে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারকে (ডিসি) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনাস্থলের কাছে থানা থাকার পরও পুলিশ কেন হামলা প্রতিহত করতে পারেনি- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। পুলিশের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
‘যেহেতু ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটেছে, পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এই ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, তাতে আসামির তালিকায় হানিফ মিয়া (৫০) নামের একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আরও দুই শতাধিক ব্যক্তিকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রাত ১২টার দিকে ২০০ থেকে ২৫০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি দা, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রাচীর টপকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে পড়েন। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।
হামলাকারীরা মূল ফটক ভেঙে ভবন ভাঙার ভারী যন্ত্র দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সব কটি কক্ষে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘জনাকীর্ণ এলাকায় এ ধরনের ব্যাপক ভাঙচুর অল্প সময়ে করা সম্ভব নয়। ঘটনাস্থনে দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুই পাশের টিনশেড ভাঙা হয়েছে এবং ভবনের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের আলামত দেখা গেছে।’
এই হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘নাম উল্লেখ করা আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা কোনো দল-মত দেখব না। আমরা দেখব কে অপরাধী। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’




