সবজি-ডিমে স্বস্তির হাওয়া রাজধানীতে, মাছ-মাংসে বাড়তি চাপ

ফাইল ছবি
বাজারের এক পাশে টমেটো, শিম আর ফুলকপির দাম শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন ক্রেতা, অন্য পাশে পেঁপে আর লাউয়ের স্তূপে তুলনামূলক স্বস্তির খোঁজ করছেন কেউ কেউ। শীতের আগাম শাক-সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। এতে কয়েকটির দাম কমেছে, নিম্নমুখী ডিমের দামও। কিন্তু চাল, ডাল, তেল, চিনি, মাছ ও মাংসের বাজারে এখনো অস্বস্তি। ফলে বাজারের ব্যাগে কয়েকটি সবজি উঠলেও মাসের খরচের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে রাজধানীর বহু মানুষ শহর ছেড়েছে। ছুটি শেষে অনেকে এখনো ফেরেনি। ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বাজারে বেচাকেনাও কিছুটা কম। এর মধ্যে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় কোনো কোনো পণ্যের দাম নেমেছে। তবে একসঙ্গে সব পণ্যের দাম কমার লক্ষণ নেই। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
বাজারে এখন তুলনামূলক কম দামের সবজির মধ্যে রয়েছে পেঁপে, লাউ ও মিষ্টিকুমড়া। এলাকাভেদে প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। পটোল, ঢেঁড়স, ঝিঙা ও বেগুনের দাম কোথাও কোথাও ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। তবে আগাম শিম কিনতে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। টমেটোর দামও চড়া, কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আকার ও বাজারভেদে ফুলকপির প্রতিটি ৪০ থেকে ৭০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. নাজিম বলছিলেন, ‘বাজারে সবজির সরবরাহ আছে, কিন্তু ক্রেতা কম। কয়েক দিন ধরে বেচাকেনা কম হচ্ছে। সবজি রেখে দিলে পচে যায়। তাই লোকসান এড়াতে অনেক সময় কম দামেও বিক্রি করতে হয়।’
ডিমের বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনপ্রতি দাম প্রায় ১০ টাকা কমেছে। বাজারভেদে বাদামি ডিমের ডজন ১৪০ এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা। গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা। মাছের বাজারেও দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ এবং রুই ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। টেংরা ও দেশি মাছের দাম আরও বেশি। আকার ও ধরনভেদে কিছু মাছের কেজি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকারও বেশি।
হাতিরপুলে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আশিক ভূঁইয়া বললেন, ‘আগে মাছ কিনলে মুরগির তুলনায় কিছুটা সাশ্রয় হতো। এখন মাছের দামও বেশি। বাসাভাড়া দিতেই বেতনের অর্ধেক চলে যায়। বাজারের খরচও অনেক বেড়েছে, কিন্তু বেতন তো আর বাড়ছে না।’
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পচনশীল সবজির সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তনে দ্রুত দাম কমতে পারে। কিন্তু চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্যে স্বস্তি ফিরতে হলে সরবরাহব্যবস্থা ও পাইকারি বাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।



