প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং
রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: আগামীর সময়
রাজধানী ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে একজন নাগরিক হিসেবে ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাজধানীর জুরাইনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, ‘এটি করার জন্য সরকারের কেউ বা এমপি, মন্ত্রী, ওয়ার্ড কমিশনার বা মেয়র হওয়ার দরকার নেই। একজন নাগরিক হিসেবে সবাই নগরীকে পরিচ্ছন্ন করার কাজটি করতে পারেন।’
এ দিন জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৬টি স্থানে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার ও পোশাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বেলা সাড়ে ১১টায় মানিক মিয়া এভিনিউয়ের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। এরপর একে একে শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাংলা কলেজ এলাকা, পল্লবী মেট্রো স্টেশন, ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড, ফুজি ট্রেড সেন্টার, জোড়পুকুর খেলার মাঠ, বাংলাবাজার, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন এবং ধানমন্ডিতে পোশাক ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ধানমন্ডি এলাকায় দুস্থদের মাঝে পোশাক ও খাবার দেওয়া শেষে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের বাসার উদ্দেশে রওনা হন বলে জানিয়েছে তার প্রেস উইং।
এর আগে জুরাইনের অনুষ্ঠানে শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করেছে। মোটামুটিভাবে অনেকাংশে বিভিন্ন জায়গা পরিষ্কার করেছে। এখনো অনেক জায়গা বাকি আছে, তারা কিন্তু সেগুলোও করেছে।’
নগরবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এখানে যতগুলো মানুষ আমার সামনে দাঁড়িয়েছেন, কম-বেশি সবাই এই ঢাকা শহরেই বাস করেন। এখন চিন্তা করেন এলাকাটা যদি পরিষ্কার থাকে, তাহলে তো আপনার নিজের কাছেই ভালো লাগবে।’
এ সময় নাগরিকদের যত্রতত্র ময়লা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘চেষ্টা করবেন আবর্জনাটা যেখানে সেখানে না ফেলার জন্য, আবর্জনাটা সঠিকভাবে ফেলতে হবে। এখানে কয়েক হাজার মানুষ আমরা জড়ো হয়েছি। প্রত্যেকে যদি এক কেজি করে ময়লা একটা জায়গায় ফেলে, তাহলে কত কেজি ময়লা হবে। আমরা যদি প্রত্যেকে যত্নবান হই যে, যেখানে-সেখানে ময়লাটাকে ফেলব না, তাহলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিষ্কার করা আরও সহজ হবে।’
তিনি যোগ করেছেন, ‘ময়লাটা আপনার পকেটে নিয়ে নেন। যদি টিস্যু পেপার থাকে, কোনো কিছু থাকে; যখন বাদাম খাবেন, এমনভাবে এক জায়গায় বাদামের ছোকলাটা ফেলেন, যাতে জায়গাটা ময়লা না হয়।’
তারেক রহমান জানিয়েছেন, এই দেশটি কারো একার না, সবার। এই দেশকে যদি গড়ে তুলতে হয়, তাহলে প্রত্যেককে হতে হবে সচেতন। এই দেশকে যদি সুন্দরভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তবে প্রত্যেককেই করতে হবে পরিশ্রম।
‘আসুন, আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে আমরা একটি শপথ নিই, দেশটাকে সকলে মিলে গড়ে তুলব,’ যোগ করেছেন তিনি।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘দেশের নাগরিক হিসেবে স্বচ্ছল ব্যক্তিরাও যদি একইভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে আমরা দ্রুতই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারব। …শুধু রাজনৈতিক দল বা সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে একজন অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে ধীরে ধীরে দেশের চেহারা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজকের দিনে সকল বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকের প্রতি আমাদের আহ্বান, আসুন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াই।’
মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে জনগণের সমর্থন দরকার বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। কাজেই জনগণের সহযোগিতা, সমর্থন ও আস্থা আমাদের সঙ্গে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা দ্রুতই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হব।’
অনুষ্ঠানে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ আরও অনেকে।
এর আগে বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুস্থদের মাঝে খাবার ও পোশাক দিয়েছেন তিনি।
এ দিন বেলা ১১টায় প্রথমে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতাকে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি-প্রধান। এদিকে সন্ধ্যায় গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসায় অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ মাহফিল।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, এতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা। আরও ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, মেজ বোন সেলিমা ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, এসএসএফ ও পিজিআর সদস্যরাও অংশ নেন এই মিলাদে।






