মিরপুরে পানির জন্য হাহাকার

পানির অপেক্ষায় থাকা বাসিন্দারা—সংগৃহীত ছবি
‘কয়েক দিন গ্যাস না থাকলে দোকান থেকে খাবার কিনে এনে খাওয়া যায়। কিন্তু পানি ছাড়া তো কিছুই করা যায় না। আমরা এখন টাকা দিয়েও পানি পাচ্ছি না’— প্রচণ্ড ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল মিয়া।
পানির সংকটের কথা জানিয়েছেন ওই এলাকার মাসুদ রানাও। তিনি জানালেন, গত ২০ জুন থেকে পানির সংকট দেখা দিয়েছে শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর-২ ও মিরপুর-১১ সহ আশপাশের এলাকায়। এতে এক সপ্তাহ ধরে পানির খোঁজে ছুটতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা বলছেন, মেট্রোরেল চালুর পর মিরপুর এলাকায় বহুতল ভবন এবং বাসিন্দার সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পানি সরবরাহ বাড়ায়নি ঢাকা ওয়াসা। ফলে অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পানি মিলছে না। নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে বেড়েছে অসহনীয় ভোগান্তি।
‘আমার মেরুদণ্ডে সমস্যা, ৫ কেজির বেশি ওজনের কোনো জিনিসও বহনে নিষেধ করেছেন চিকিৎসক। আমার বউটাও অসুস্থ, তাই খুবই কষ্টে আছি। এর আগে এমন সংকট দেখা দিলে ড্রামে পানি ভইরা রাখতাম। কিন্তু অসুস্থ থাকার কারণে এবার পানি রাখতে পারিনি, প্রতিদিন পাঁচতলায় পানি উঠানো আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে’, বলছিলেন নজরুল।
প্রায় এক সপ্তাহের মতো হবে বোনের বাসায় যাইয়া থাকতেছি। কিন্তু কয়দিন এমন কইরা থাকুম? পানি কিনবার গেলেও দাম বেশি চাইতেছে। এর একটা বিহিত করা উচিত।
শেওড়াপাড়া মেট্রোস্টেশনের পাশেই ফুটবলের জার্সি বিক্রি করছিলেন দুলাল মিয়া। প্রতিবেদককে শোনালেন একগাদা অভিযোগ। বলছিলেন, ‘আমরা যদি ঠিকমতো পানিই না খাইতে পারি, তাইলে এই দেশে থাকার লাভটা কী? প্রায় এক সপ্তাহের মতো হবে বোনের বাসায় যাইয়া থাকতেছি। কিন্তু কয়দিন এমন কইরা থাকুম? পানি কিনবার গেলেও দাম বেশি চাইতেছে। এর একটা বিহিত করা উচিত।’
ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, সাভারের ভাকুর্তা শোধনাগার থেকে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয় মিরপুর এলাকায়। কিন্তু ২০ জুন শোধনাগারের ট্রান্সফরমার ও জেনারেটরে ত্রুটি দেখা দেয়। ওই দিন মাত্র ৭ কোটি লিটার পানি পাওয়া যায়। পরের দুই দিন প্রতিদিন ১০ কোটি লিটার করে পানি সরবরাহ করা হয়। ফলে তিন দিনে স্বাভাবিকের তুলনায় মোট ৯ কোটি লিটার পানি কম সরবরাহ হয়েছে।
ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, ভাকুর্তার পানি মূলত বৃহত্তর মিরপুরে যায়। তাই সরবরাহে সামান্য ঘাটতি হলেও এর বড় চাপ পড়ে শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মনিপুর ও আশপাশ এলাকায়। আগে থেকেই যেসব এলাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম ছিল, সেখানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
পানির সংকটে থাকা মিরপুর এলাকা দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে ওয়াসার মডস জোন-৪। সেখানকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেছেন, ‘সংকট শুরু হলেই বেশি করে পানি স্টোরেজ করা শুরু করে কিছু পরিবার। যে কারণে আরও তীব্র হয় সংকট। আমরা শেওড়াপাড়া এলাকায় একটি ডিপ নলকূপ স্থাপন করছি। এটার কাজ শেষ হলেই আশা করি পানির সংকট দূর হবে।’




