ডা. জুবাইদা রহমান
শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ

ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি : আগামীর সময়
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশ। আজ সোমবার সকালে তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) পরিদর্শন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. জুবাইদা।
শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী বলেন, তোমাদেরকে ভালোভাবে পড়াশোনা করে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে পরিচয় করাতে হবে। তোমরাই গড়বে আগামীর বাংলাদেশ।
সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী ‘সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)’ পরিদর্শন করেছেন জুবাইদা রহমান। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত রাষ্ট্রীয় শিশু কল্যাণমূলক কর্মসূচির মধ্যে ‘সরকারি শিশু পরিবার’ অন্যতম।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বহু শিশু এতিম ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। তৎকালীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে এসব শিশুর পুনর্বাসন ও সুরক্ষার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে রাষ্ট্রীয় অনাথ আশ্রম হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু হয়।
পরবর্তীতে সমাজসেবা অধিদপ্তর এই এতিমখানাগুলোর আধুনিকায়ন করে। ১৯৭৪ সালের অনাথ আশ্রমগুলোকে ১৯৮৬ সালে ‘সরকারি শিশু সদন’ এবং সর্বশেষ ২০০০ সালে একটি পারিবারিক আবহ ও মানবিক মর্যাদা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নাম পরিবর্তন করে ‘সরকারি শিশু পরিবার’ হিসেবে নামকরণ করা হয়।
এর মধ্যে বালিকাদের জন্য ডেডিকেটেড উক্ত শাখাটি অবহেলিত ও এতিম বালিকাদের সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) সৃষ্টির ইতিহাস এবং এর মূল কার্যক্রম ও সেবাসমূহ—প্রতিষ্ঠানটি সর্বপ্রথম ১৯৪৮ সালে বাইতুল আতফাল-ই-ছাবিয়া এতিমখানা নামে বেসরকারিভাবে যাত্রা শুরু করে।
পরবর্তীতে ১৯৮২ সালের ২১ অক্টোবর এই এতিমখানাটিকে সম্পূর্ণ সরকারি সংস্থায় রূপান্তর করা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), তেজগাঁও, ঢাকা নামে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
এতে ১৭৫ জনের আসন থাকলেও বর্তমানে ১১৩ জন নিবাসী আছেন বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক সানজিদা আয়েশা।
প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনকালে ডা. জুবাইদা রহমান নিবাসী শিশুদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান ও তাদের পরিবেশিত সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এতে তিনি শিশুদের পরিবেশিত বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মো. মাহবুব হোসেনসহ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্যে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মো. মাহবুব হোসেন জানান, অসহায় ও এতিম শিশুদের লালন-পালনের জন্য সারা দেশে ৮৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।



