ছুটির দিনে জুলাই জাদুঘরে উপচে পড়া ভিড়

ছবি: আগামীর সময়
সকাল ১০টার দিকেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে মানুষের দীর্ঘ সারি। কারও কোলে শিশু, কারও সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান। কেউ এসেছেন সাভার থেকে, কেউ নারায়ণগঞ্জ, আবার কেউ রাতের বাসে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসেছেন শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি দেখতে। সবার চোখে একধরনের কৌতূহল। কিন্তু সে কৌতূহলের সঙ্গে যোগ হয় অপেক্ষার ক্লান্তি।
দর্শনার্থীদের ধারণা ছিল, বেলা ১১টায় খুলবে জাদুঘর। সেই হিসাবে অনেকে সকালেই চলে আসেন। কিন্তু গেটে এসে জানতে পারেন, শুক্রবার জাদুঘর খুলবে বিকাল ৩টায়। এরপর শুরু হয় অপেক্ষা। কেউ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে, কেউ রাস্তার পাশে বসে, কেউ আবার রোদ থেকে বাঁচতে আশপাশে ছায়া খুঁজছেন। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই বাড়ছিল ভিড়। সঙ্গে বাড়ছিল ক্ষোভও। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর একপর্যায়ে দর্শনার্থীদের মুখে শোনা যায় স্লোগান ‘হই হই রই রই, টিকিটম্যান গেল কই।’
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকেই শিশুদের নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন। কুমিল্লা থেকে আগের রাতেই ঢাকায় এসেছিলেন মিশুকচালক মো. ইসমাল হোসেন। রাতে ছিলেন মিরপুরের শাহ আলী মাজারে। সকাল সাড়ে ৯টায় চলে আসেন জাদুঘরের সামনে। তিনি বললেন, ‘আমি রাতে এসেছি শেখ হাসিনার বাড়ি (সাবেক গণভবন) দেখার জন্য। সকাল সাড়ে ৯টায় এখানে এসেছি। মানুষ বলল ১১টার দিকে খুলবে। পরে জানলাম ৩টায় খুলবে। এখন আর কী করার। সকাল থেকে এই এলাকা হেঁটে হেঁটে ঘুরলাম।’
সাভার থেকে পরিবার নিয়ে আসা রহমান আলী বললেন, ‘আজ ছুটির দিন বলে পরিবার নিয়ে এসেছি। যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, সেগুলো বাচ্চাদের দেখানোর জন্যই এখানে আসা।’
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বললেন, ‘ভবনের ধারণক্ষমতা সীমিত হওয়ায় পরিকল্পনা রয়েছে স্লট পদ্ধতিতে দর্শনার্থী প্রবেশ করানোর। প্রথম সপ্তাহে আগ্রহ বেশি থাকায় বেশি মানুষকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে।’




