নারী-শিশুর নিরাপত্তায় অচল সিস্টেম সচলের আহ্বান

বুধবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি
নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের ঘটনায় সরকারের দৃশ্যমান জবাবদিহিতা এবং নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘হত্যা, নিখোঁজ ও সহিংসতার বিষয়ে সরকারের জবাবদিহিতা দৃশ্যমান করো; শিশু, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করো’ প্রতিপাদ্যে এ মানববন্ধন করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।
এতে বিভিন্ন নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী।
তিনি বলেছেন, ‘শুধু আইন থাকলেই অপরাধ দমন হবে না; পুলিশ, আইনজীবী ও বিচার বিভাগের সমন্বিত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বিচার শেষ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দৃশ্যমান করার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেছেন, ‘নারী ও শিশু হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন-হুমকি বন্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ও অপরাধের অশুভ আঁতাত ভাঙতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ, নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামী বলেন, ‘পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখনো ২ হাজার ৩৮টি শিশু নিখোঁজ। এসব শিশুর পরিণতি কী হয়েছে, তারা কোথায় আছে, সেই প্রশ্নের উত্তর চায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।’
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী বললেন, ‘প্রতিটি সহিংসতার ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ ও বিচলিত। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের জোরালো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে একে অন্যকে দায়ী করার প্রবণতাও বন্ধ করতে হবে।’
কর্মজীবী নারীর পরিচালক সানজিদা সুলতানা সহিংসতা প্রতিরোধে ‘অচল সিস্টেম’ সচল করার দাবি জানান। এডাবের মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে সহিংসতা বাড়ছে।’
মানববন্ধনে নারীপক্ষ ও ডব্লিউডিডিএফ সংহতি প্রকাশ করে। সঞ্চালনা করেন জনা গোস্বামী।



