বন্দর ইজারা দেশের স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে বাতিলের দাবি

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে সমাবেশ ও মশাল মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা করিডরবিরোধী আন্দোলন। সমাবেশ থেকে বন্দর ইজারা প্রক্রিয়া ও অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. আবু সাঈদ। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াত, আদিবাসী যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিরা ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)-এর সভাপতি গৌতম শীল। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বললেন, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া, মাতারবাড়ি ও চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে সামরিকভাবে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, বন্দর ও বিমানঘাঁটি বিদেশি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এবং বাংলাদেশের বন্দর ও বিমানঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
তাদের ভাষ্য , ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ মে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে এবং দুই দেশের মধ্যে পূর্বস্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নের বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনা করে। চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারা বলেন, এসব চুক্তি কার্যকর হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের বন্দর ও বিমানঘাঁটি ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সরবরাহ সুবিধা পাবে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারির পরিধি বাড়বে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিল এবং চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে টিএসসি এলাকার রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ ঘুরে পুনরায় শাহবাগে এসে শেষ হয়।






