কুইক রেন্টালের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হওয়া উচিত: বিইআরসি চেয়ারম্যান

কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেছেন, কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
আজ শুক্রবার রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জালাল আহমেদ বলেছেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চুক্তির মেয়াদ সাধারণত তিন বছর হওয়ার কথা ছিল। সে সময় বিদ্যুতের দাম ছিল প্রায় ১৬ টাকা। কিন্তু বিনিয়োগের অর্থ উঠে যাওয়ার পর নবায়নের সময় শুধু পরিচালন ব্যয়ের ভিত্তিতে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ না করে প্রায় আগের দামেই বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে। তার ভাষ্য, এতে অনিয়মের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, সংকট দ্রুত পুরোপুরি নিরসনের সম্ভাবনা নেই। তবে সরকারের নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করে সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেছেন, অতীতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিল। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে কমিশনের স্বার্থে এলএনজি আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়া হয়েছিল।
তিনি মন্তব্য করেন, পতিত সরকারের সময় জ্বালানি নীতি ছিল বিভ্রান্তিকর, বিতর্কিত ও তোষণমূলক। ওই সময়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমানে জ্বালানি সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর মাশুল শিল্প উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরও বলেছেন, জ্বালানি সংকটের জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করা হলে তা হবে তাদের প্রতি অবিচার। তার ভাষ্য, বাপেক্সকে কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। আমদানি নির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগই বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (নিটার) পরাজিত করে সরকারি বাঙলা কলেজ বিজয়ী হয়েছে।





