মেট্রো স্টেশনে সাইকেল পার্কিং সুবিধা চান যাত্রীরা

সংগৃহীত ছবি
উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা জামাল হোসেন কাজ করেন কারওয়ান বাজারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। যাতায়াতের জন্য তাকে নির্ভর করতে হয় মেট্রোরেলের ওপর। তবে বাসা থেকে মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত যেতে নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাকে। তার মতে, মেট্রো স্টেশনে সাইকেল রাখার ব্যবস্থা থাকলে এই ভোগান্তি কমে যেত অনেকটা।
একই কথা বললেন মিরপুর ১৩ নম্বরের বাসিন্দা তন্ময় রহমান। তিনি বললেন, 'প্রতিদিন বাসা থেকে মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত যেতে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে অফিস টাইমে রিকশা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। কখনো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও রিকশা মেলে না, আবার কখনো অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হয়। বাধ্য হয়ে অনেক সময় হেঁটেই স্টেশনে যেতে হয়, এতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি কর্মস্থলে পৌঁছাতেও দেরি হয়ে যায়।'
তন্ময় রহমান জানালেন, মেট্রো স্টেশনগুলোর আশপাশে নিরাপদ সাইকেল রাখার ব্যবস্থা থাকলে অনেকে বাসা থেকে সাইকেল চালিয়ে স্টেশনে আসতে পারতেন। এতে রিকশার ওপর নির্ভরতা কমত, যাতায়াতের খরচও কমে যেত। পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের চাপ এবং দূষণ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হতো। তাঁর ভাষায়, 'স্টেশনে সাইকেল রাখার নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা থাকলে আমরা নিশ্চিন্তে সাইকেল নিয়ে আসতে পারতাম। এখন সবচেয়ে বড় ভয় হলো, সাইকেল রাখব কোথায় এবং সেটি নিরাপদ থাকবে কি না।'
শুধু জামাল কিংবা তন্ময়ই নন, তাদের মতো আরও অনেকে এমন একটি সুবিধা চান। তাদের এই দাবি অমূলক নয় বলে মত দিলেন সংশ্লিষ্টরা। অন্য দেশগুলোর দিকে তাকালেও দেখা মিলবে এই সুবিধা।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাইসাইকেল পার্কিং অবস্থান নেদারল্যান্ডসের রেলস্টেশন উট্রেখট সেন্ট্রাল স্টেশনে। তিনতলা বিশিষ্ট এই পার্কিংয়ে রাখা যায় সাড়ে ১২ হাজার বাইসাইকেল। দূরদূরান্ত থেকে আসা ট্রেনের যাত্রীরা গন্তব্যের শেষ অংশটুকু পার করেন তাদের সাইকেলে। ফেরার পথে আবার পার্কিংয়ে ঠিকানা হয় সাইকেলটির। দেশটির আরও অনেক স্টেশনে রয়েছে এই সুবিধা।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সাইকেল পার্কিংয়ের খেতাবটি জাপানের রাজধানী টোকিওর কাসাই স্টেশনে। অত্যাধুনিক এই স্টেশনে রাখা করা যায় ৯ হাজার ৪০০ বাইসাইকেল যা পার্ক করা হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দুবাই কিংবা জার্মানি, বিশ্বের অনেক দেশের মেট্রো স্টেশনে কিংবা পাশেই রয়েছে সাইকেল পার্কিংয়ের সুবিধা।
পাশের দেশ ভারতের বেঙ্গালুরুর মেট্রোস্টেশনে সাইকেল পার্কিং সুবিধা যুক্ত করতে যাচ্ছে বেঙ্গালুরু মেট্রোরেল করপোরেশন লিমিটেড। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় ১ রুপি ও দিনে সর্বোচ্চ ১০ রুপির বিনিময়ে রাজ্যের ৯টি স্টেশনে বাইসাইকেল রাখতে পারবেন যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকায় এখনো লাখো না হলেও হাজার হাজার সাইকেল আছে। এগুলো বায়ুদূষণ খানিকটা হলেও কমাচ্ছে। তারা যদি তেল পোড়ানো মোটরচালিত যানবাহনে চড়তেন, তাহলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য দূষণ নির্গত হতো। সাইকেল চালানো উৎসাহিত করতে শুধু আলাদা লেন নয়, মেট্রোর নিচে স্ট্যান্ড করা দরকার। যেখান থেকে সাইকেল নিয়ে বা রেখে একজন নাগরিক শহরের দূষণ কমাতে সাহায্য করতে পারেন।
অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ আগামীর সময়কে বলছেন, সাইকেল পরিবেশবান্ধব যানবাহন। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ সাইক্লিং প্রমোট করে। তাদের নগরের পরিকল্পনা হয় সাইকেল লেন মাথায় রেখে। তবে বাংলাদেশে সেই সুযোগ নেই। এখানে মেট্রোতে সাইকেল পার্কিং নিতে সমস্যা নেই। তবে তার আগে নগরে সাইকেল লেন চালু করতে হবে। নাহলে নগরে যদি কেউ নিরাপদে সাইকেলই চালাতে না পারে তাহলে পার্কিং দিয়ে কী হবে? আবার যদি পার্কিং পাওয়ার পর কেউ সেখানে সাইকেল রেখে যান পরবর্তীতে তিনি এসে তার বাহনটি অক্ষত পাবেন কি না সেটা নিয়েও বাংলাদেশে প্রশ্ন রয়েছে।




