আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবি

সংগৃহীত ছবি
একই বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও ক্যাডারভেদে সুযোগ-সুবিধা ও পদোন্নতিতে বৈষম্য রয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে তা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দিয়েই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পরিচালনা, অন্য ক্যাডারের পদ প্রেষণে দখল বন্ধ, ডিএস পুলের কোটা বাতিল এবং সব ক্যাডারের সমতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী অবসরপ্রাপ্ত ২৫ ক্যাডার সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে এক সভায় এসব দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানস্থলে ‘ক্যাডার যার, মন্ত্রণালয় তার’, ‘অন্যের পদ প্রেষণে দখল বন্ধ করতে হবে’, ‘কোটামুক্ত মেধাভিত্তিক সিভিল প্রশাসন চাই’, ‘সকল ক্যাডারের সমতা চাই’, ‘ডিএস পুলের কোটা বাতিল চাই’ এবং ‘সিনিয়র সার্ভিসেস পুল পুনর্বহাল চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়।
বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন বেগম বলেছেন, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদে পদে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বলেছেন, ‘আমি ১১ বছর পর সহকারী অধ্যাপক হয়েছি। আমরা মবের ওপর বিশ্বাস করি না। আমরা নিয়ম অনুযায়ী এগিয়ে যেতে চাই।’
তিনি জানান, ২০১৬ সালেও তারা এ বিষয়ে আন্দোলন করেছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দিয়েই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কায়সারের ভাষ্য, একই সিভিল সার্ভিসে একই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা ‘এলিট’ শ্রেণির সুবিধা পাবেন আর অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকবেন— এটি মেধাবীদের জন্য হতাশাজনক। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা প্রশাসন ক্যাডারের বিরুদ্ধে নই, আমরা ক্যাডারের সমতা চাই।’
কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব বলছিলেন, দূরদর্শিতা ছাড়া নেতৃত্ব কার্যকর হতে পারে না। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য যেকোনো মূল্যে দূর করতে হবে। ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি তুলে ধরলে বিষয়টি সমাধানের জন্য সরকারের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় বক্তারা মেধাভিত্তিক ও নাগরিককেন্দ্রিক প্রশাসন গড়ে তোলার দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একটি ফাইল কোথায় আটকে আছে, নাগরিক যেন তা জানতে পারেন— এমন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ই-গভর্নমেন্ট কার্যকর করার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব, তা অযথা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আটকে না রাখারও দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া সরকারি প্রকল্পে নির্ধারিত ব্যয় যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, প্রশাসনিক কাঠামো সময়ের সঙ্গে সংশোধন করা, মেধাপাচার রোধ এবং বিদেশে চলে যাওয়া মেধাবীদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় শাসনের ধারণার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তিনি যোগ করেন, সচিবালয়ে একটি ফাইল যাওয়ার পর সেটি কত সময় আটকে থাকে, তার কোনো নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায় না। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর করার ওপর জোর দেন তিনি।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা সবার দায়িত্ব। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ জায়গায় বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। তার ভাষ্য, সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করলে আন্তঃক্যাডার বৈষম্যের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
সভায় বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



