আট ঘণ্টায়ও নেভানো যায়নি চকবাজারের আগুন, কাজ করছেন ১৫০ ফায়ার ফাইটার

সংগৃহীত ছবি
পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারা এসি মসজিদের পাশে মুনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের আট ঘণ্টা পরও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে আগুনের তীব্রতা অনেকটা কমেছে। আগুন নেভাতে প্রায় দেড়শ ফায়ার ফাইটার কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে দুই ফায়ার ফাইটার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার বিকেল ৫টা ২ মিনিটে ভবনটির ছয়তলার একটি দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের ওপরের তলায় একটি গোডাউন বা ব্যাগের দোকান থেকে প্রথম ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভবনের বিভিন্ন তলায়। সেখানে প্রসাধনসামগ্রী ও ব্যাগের গোডাউন ছিল।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানায়, আগুন লাগার খবর পেয়ে বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে নিকটস্থ ফায়ার স্টেশন থেকে গাড়ি পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে স্টেশনের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। তবে যানজট ও সরু গলির কারণে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম গাড়ি সেখানে পৌঁছায়। এরপর দ্রুত আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে সদর দপ্তর ও লালবাগ ফায়ার স্টেশনের মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় তাৎক্ষণিক ব্যবহারের মতো কোনো প্রাকৃতিক বা স্থায়ী পানির উৎস নেই। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে। দূর থেকে পাইপ টেনে এবং পানিবাহী গাড়ির সাহায্যে আগুন নেভানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
রাত ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় একে একে মোট ১০টি ইউনিট এখানে কাজ করে। অতিরিক্ত স্পেশাল রেসপন্স টিম এবং একটি লাইটিং ইউনিটসহ সর্বমোট ১২টি ইউনিট এখানে কাজ করছে। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে আমরা কাজ করছি। সরু রাস্তাঘাট ও ভবনের কাঠামোগত বিষয় মাথায় রেখে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। ফায়ার ফাইটাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজ করে যাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন ধরনের গোডাউন আছে। প্রসাধনসামগ্রী ও ব্যাগের গোডাউন রয়েছে। এসব গোডাউন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের ফায়ার ফাইটাররা কাজ করছেন। এখনো আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করছি, কিছুক্ষণের মধ্যে বা ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব। পানিবাহী গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ঘটনাস্থলে আনতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে।’
হতাহতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে ধোঁয়ায় আমাদের দুই ফায়ার ফাইটার অসুস্থ হয়েছেন।’
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যাবে। কখন আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। প্রতিটি দোকানে বিপুল পরিমাণ মালামাল মজুত থাকায় আগুন নেভাতে কত সময় লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, প্রায় দেড়শ ফায়ার ফাইটারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করছেন। সব মিলিয়ে দুই থেকে তিনশ মানুষ ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।




