‘ফেমিনিস্ট গ্রিন অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড’ পেল ৩ প্রতিষ্ঠান
- দুজনকে বিশেষ সম্মাননা

নারীবাদী সবুজ জলবায়ু রূপান্তর এবং টেকসই অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিন প্রতিষ্ঠান ও দুজন তৃণমূল উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয়েছে ‘ফেমিনিস্ট গ্রিন অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। ঢাকার একটি হোটেলে বুধবার রাতে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন এইড।
‘ইয়ুথ-লেড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে ‘স্বচ্ছ’ এবং ‘ওয়ার্ল্ড লিংকআপ’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। ‘এসএমই’ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড’।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘স্বচ্ছ’ পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার; ‘ওয়ার্ল্ড লিংকআপ’ যুবকদের সম্পৃক্ত করে জলবায়ু সচেতনতা ও সবুজ প্রযুক্তির প্রসার এবং ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড’ স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প তৈরির মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতিতে অবদান রাখে। আর তারই স্বীকৃতি এসেছে অ্যাকশন এইডের পুরস্কার হিসেবে।
পাশাপাশি সমাজে টেকসই পরিবেশ ও কর্মসংস্থানে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর দুজনকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা। এরা হলেন বগুড়ার নারী উদ্যোক্তা শারমিন আক্তার এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক উদ্যোক্তা সোলেমান আলী।
শারমিন আক্তার উচ্ছিষ্ট কাপড় ও সুতা থেকে দড়ি তৈরি করে দুই শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ। অন্যদিকে, ‘সোলার ম্যান’ খ্যাত সোলেমান আলী তার উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে কৃষকদের সেচকাজে স্বল্প খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মডেল তৈরি করেছেন। তার এই 'ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র' মডেলটি বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে স্থানীয় কৃষকদের সেচকাজে এনে দিয়েছে স্বস্তি।
অনুষ্ঠানে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বললেন, ‘ন্যায্য ও নারীবাদী রূপান্তরে এসএমই এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে আমাদের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
জলবায়ু ও পরিবেশের টেকসই রূপান্তরের সাথে মানুষের মানসিকতা ও সংস্কৃতির যোগসূত্রটি তুলে ধরে তিনি দেশে শিশু ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আপসের মানসিকতা এবং আইনের শাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ‘স্পটলাইট স্পিকার’ হিসেবে প্রকৃতি, নারী ও মানুষের দায়বদ্ধতার আলোকে বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মী আফজাল হোসেন। তিনি বললেন, ‘আমি নিজেকে নারীবাদী ভাবি কি না, তা বড় কথা নয়; তবে আমি বিশ্বাস করি এই পৃথিবীটা মূলত নারীদের কাছ থেকে পাওয়া অনুভবের পাঠশালা। প্রকৃতি যেভাবে সবকিছুকে লালন করে, নারীরাও ঠিক সেভাবেই সমাজ ও জীবনকে আগলে রাখে।’
এ বছর পুরস্কারের জন্য অনলাইনে মোট ২৭টি আবেদন জমা পড়েছিল। এরপর বিচারকদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়। বিচারক প্যানেলে ছিলেন সাপোর্ট-এর কান্ট্রি ম্যানেজার সুরাইয়া আক্তার, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সুমাইয়া টি. আহমেদ, স্থপতি ও বিল্ড বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফরহাদুর রেজা, অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনালের আইএইচএআরটি-এর গ্লোবাল রেজিলিয়েন্স অ্যাডভাইজার তানজির হোসেন এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির।




