পদ্মা হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু
লাইভে অভিযোগকারী ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’

পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল।
ঢাকার বাংলামটরের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শিশুটির মৃত্যুর পর তার স্বজন পরিচয়ে যিনি ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করছিলেন, তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান।
গতকাল রবিবার রাতে হাসপাতালটিতে নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর অবহেলার অভিযোগ তোলেন তার স্বজনরা। হাসপাতাল ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে।
ফেসবুক লাইভের পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনার মধ্যে আজ হাসপাতালটিতে যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ রায়হান। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এসেছেন।
আয়ান আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর তার স্বজন পরিচয়ে আসিফ হাসান নামে একজন ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেছিলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
১৩ দিন আগে হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার পর শিশুটিকে পেডিয়াট্রিক আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। সেখানে গতরাতে তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় বলে জানান হাসপাতালটির চিকিৎসকরা।
শিশুটির অসুস্থতা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, শিশুটির জন্মগতভাবে কিছু শারীরিক ত্রুটি ছিল। তার দেহে থাইররে হরমোন তৈরি হচ্ছিল না। তার কিডনি ও জননাঙ্গেও ছিল জটিলতা। তার মধ্যে তার শ্বাসনালীতে খাবার চলে গিয়েছিল।
শিশুটি ‘ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে’ এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল বলে তথ্য পেয়েছেন ডা. জাহিদ রায়হান। তিনি বলেন, তার চিকিৎসা ঠিকভাবেই চলছিল। গত পরশু থেকে উন্নতিও হচ্ছিল। হঠাৎ করেই গত রাতে অবনতি ঘটে।
তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলার কোনো প্রমাণ পাননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানলাম যে ডিউটি ডক্টর যিনি ছিলেন, উনি কিন্তু সাথে সাথে আসছেন। আসার পর যখন দেখছেন যে বাচ্চাটা খারাপ হয়ে গেছে হঠাৎ করে, তখন রোগীর অ্যাটেন্ডেন্টদেরকে উনি ব্রিফ করছেন যে আমরা এখন টিউব দিয়ে দিতে চাই। সেই সিদ্ধান্ত নিতে বাচ্চার পরিবার ১৫-২০ মিনিট দেরি করে ফেলে। তারপরও কোনো কনসেন্ট ছাড়াই বাচ্চাকে বাঁচানোর স্বার্থে টিউবটা দিয়ে দেওয়া হয় এবং আল্টিমেটলি বাচ্চাটা কিছুক্ষণ পরে মারা যায়।’
শিশুটির মৃত্যুর পর যিনি লাইভ করেছেন, তার পরিচয় নিয়ে ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘এখানে কিছু ভিডিও আসছে, যেগুলো আমরা দেখছি। সেই ভিডিওগুলো কিন্তু একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের করা এবং সে পেশেন্টের কিন্তু নিকট আত্মীয় কেউ না।’
ভিডিওতে ভাংচুর-গালাগালিল দৃশ্য দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো, ওরা ফৌজদারী অপরাধমূলক ঘটনা তো ঘটছেই, কিছু কথাবার্তা তারা বলছে যে ছুরি নিয়ে আসার জন্য, মেরে ফেলবে ডাক্তারকে, এটা করবে, সেটা করবে।’
সার্বিক বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হবে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘আমি মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলে নিছি এই ফাঁকে যে আমরা একটা তদন্ত টিম করে দেব এবং এই নিওনেটালজির যারা সিনিয়র প্রফেসর, এরকম দুই-তিনজনকে নিয়ে যেভাবে তদন্ত কমিটি করা হয়।’
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ীয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানন তিনি।
‘আমি আপনাদেরকে খুব দৃঢ়তার সাথে বলতে চাচ্ছি, এই হসপিটালে এই তদন্ত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা ব্যবস্থা নেব। যদি এরকম প্রমাণ হয় যে এখানে কোনো রকম নেগলিজেন্সি হয়েছে, সে নেগলিজেন্সির সিভিওরিটি অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা নেব।’




