সংবিধান সংশোধন কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকেও নেই ১১ দল ও ইসলামী আন্দোলন

জুলাই জাতীয় সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলতি বছরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। একই সঙ্গে সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে সংশোধনের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিটি। তবে এ প্রক্রিয়ার শুরুতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ায় সামনে এসেছে রাজনৈতিক মতপার্থক্য। প্রথম বৈঠকের ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবারের দ্বিতীয় বৈঠকেও যায়নি তারা।
সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
বৈঠকে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি অংশ নেয় এবং একটি দল লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রস্তাব দেয়। আলোচনার ভিত্তিতে এবং জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলতি বছরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকের বিরোধিতা করে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বললেন, সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির উদ্যোগকে ধারণাগতভাবেই সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার বাস্তবায়নের কাজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। গণভোটের রায়কে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
গণভোটের রায়ের আলোকে জনগণের মতামত ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকেও বৈঠকে প্রতিনিধি না পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও বৈঠকে অংশ নেয়নি। দলটির সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেছেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হওয়া উচিত। ওই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নিতে চান না। অন্যদিকে বৈঠকে অংশ নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম প্রতিবাদ জানিয়ে বেরিয়ে যান। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, জুলাই সনদের সুপারিশ ও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত রিপোর্ট উপস্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে।



