টাকা হাতাতে ‘বিয়ের ফাঁদ’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফেসবুকে পরিচয়, এরপর বিয়ের প্রস্তাব। সম্পর্কের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে এক নারীকে ব্যবহার করে ১৯ জনকে বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ঢাকার হাজারীবাগের শোভন খান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গ্রিস, সাইপ্রাস, কানাডা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়ার পর বিদেশে পাঠানো হয়নি কাউকেই। উল্টো কয়েকজনকে দেওয়া হয়েছে ভুয়া ভিসা, ওয়ার্কপারমিট, জব অফার লেটার ও বিমানের টিকিট।
এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন উত্তরা এলাকার ৩৪ বছর বয়সী নদীয়া। মামলার পর গ্রেপ্তার শোভনকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ফেসবুকের মাধ্যমে উত্তরার নদীয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় হাজারীবাগের ৩২ বছর বয়সী শোভন খানের। তাদের মধ্যে তৈরি হয় ঘনিষ্ঠতা এবং একপর্যায়ে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় বিয়ে নিয়ে। শোভন নিজেকে দাবি করেছিলেন আমেরিকার নাগরিক। জানিয়েছিলেন, কাজ করেন গ্লোবাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর।
এরপর নদীয়ার পরিচিতদের বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেন শোভন। েতার কথায় বিশ্বাস করে ১৯ জনকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জোগাড় করেন নদীয়া। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিয়ে শোভনের কাছে জমা দেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার অভিযোগে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশে পাঠানো হয়নি কাউকেই।
পাঁচ দেশে পাঠানোর চুক্তি, দেওয়া হয় ভুয়া কাগজপত্র: অভিযোগ অনুযায়ী, কথা ছিল ১৯ জনের মধ্যে নয়জনকে কানাডা, একজনকে পর্তুগাল, তিনজনকে ইতালি, দুজনকে নেদারল্যান্ডস এবং পাঁচজনকে সাইপ্রাসে পাঠানোর। এজন্য তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হইয়েছিল শোভনের কাছে। ইতালি যেতে ২২, কানাডা ২০ লাখ, পর্তুগাল ১৭ লাখ, নেদারল্যান্ডস ২২ লাখ এবং সাইপ্রাস যেতে ১০ লাখ টাকা করে নেওয়ার চুক্তি হয়। এরই মধ্যে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫-১১ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে শোভনকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগী শফিকুল, এইচ এম রুহান ও আদি আহম্মেদ আশিককে দেওয়া হয় ভিসা, ব্লুপেপার, ওয়ার্কপারমিট ও বিমানের টিকিট। এসব কাগজ যাচাই করতে গিয়ে সেগুলো ভুয়া বলে জানতে পারেন ভুক্তভোগীরা। ভিসার স্ট্যাটাস যাচাই করলে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) থেকে যাচাই করেও এসব কাগজের কোনো মিল পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার অভিযোগে।
এ ছাড়া ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম, রাজিব মাহমুদ ও জসীম উদ্দিনকে দেওয়া হয় কানাডার জাল জব অফার লেটার ও অ্যাগ্রিমেন্ট। ভুক্তভোগী সুমন ও রিজনকে দেওয়া হয় পর্তুগালের ডি-১ ভিসা, ওয়ার্কপারমিট ও বিমানের টিকিট। পরে সেগুলোও ভুয়া প্রমাণিত হয় বলে জানানো হয়েছে মামলার অভিযোগে।
১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা দিয়েও বিদেশ যেতে পারেননি কেউ: মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কথা ছিল তিন মাসের মধ্যে ১৯ জনকে চাকরি দিয়ে বিদেশ পাঠানোর। এজন্য আনোয়ার, আবুল কাশেম, ফারজানা বিশ্বাস, ফয়সাল মিয়া, শহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, রাজিব আহমেদ ও জসীম উদ্দিনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়।
তরিকুল ইসলাম, রাজন মিয়া, আবু সায়িদ ও আয়ুব খানের কাছ থেকে নেওয়া হয় ১১ লাখ টাকা করে। সুমন, এইচ এম রুহান, শফিকুল ও আদি আশিক আহমেদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৫ লাখ করে। এ ছাড়া রাসেল ইসলাম জনির কাছ থেকে ৯ লাখ, রিজনের কাছ থেকে সাড়ে ৮ লাখ এবং সৈয়দ জাফরের কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়।
সব মিলিয়ে ১৯ জনের কাছ থেকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নেওয়া হলেও নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে কেউ বিদেশে যেতে পারেননি। পরে নদীয়া শোভনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত চান টাকা ও পাসপোর্ট। এ সময় তাকে হুমকি ও গালাগাল করেন শোভন।
রিমান্ড শেষে কারাগারে শোভন: ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, মামলার আসামি শোভন খানকে গ্রেপ্তারের পর গত ৯ আগস্ট তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। এ সময় মামলার ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন তিনি।






