প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ— ছবি: বাসস
প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুনভাবে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষকের পদায়ন শেষ হওয়ার পর আবার বদলি কার্যক্রম চালু হবে। তবে তখন বর্তমান নীতিমালায় বদলি চলবে, নাকি নতুন কোনো পদ্ধতি চালু হবে— সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক গণসাক্ষরতা দিবস নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, ‘বদলি স্থগিত রাখার সময়ের মধ্যে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন সম্পন্ন করা হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে বদলি কার্যক্রমের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আদালতের রায় পাওয়া গেছে। গ্রেড নির্ধারণসহ পরবর্তী কার্যক্রমে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ফল জানানো সম্ভব হতে পারে। দেশে সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। শ্রমশক্তি জরিপ-২০২৪ অনুযায়ী, দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সাক্ষরতাকে শুধু পড়া, লেখা ও গণনার সক্ষমতা হিসেবে না দেখে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ঝরে পড়া ৫ হাজার ১২০ তরুণ-তরুণীকে ৪৬০ ঘণ্টার কার্যকর সাক্ষরতা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জনের মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন সক্ষম হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের ৯২ দশমিক ৪৭ শতাংশ কোনো না কোনো কর্মসংস্থানের সংযোগ পেয়েছেন।
এ ছাড়া ৬৪ উপজেলায় ১৯ হাজার ২০০ বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা এবং আরও ১৯ হাজার ২০০ তরুণকে জীবিকায়ন দক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ৫০ জেলায় আরও ৪ হাজার কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।





