দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
কনস্যুলেটের গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নিতে বলল সংসদীয় কমিটি

ছবি: জাতীয় সংসদ
সৌদি আরবে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অথচ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি দেশটি। এ ঘটনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কোনো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নিতে বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
আজ রবিবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ১৪ দিন আগে সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দির তালিকা পাঠিয়েছিল। সেখানে ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম ছিল; কিন্তু বিষয়টি যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।
ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী এবং সানজিদা ইসলাম। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।নারী কর্মী নির্যাতন শূন্যের কোঠায় আনতে চায় মন্ত্রণালয়
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবে নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ উঠে আসে। সৌদি আরবে ১–২ শতাংশ বাংলাদেশি নারী কর্মী নির্যাতনের শিকার হন বলে সংসদীয় কমিটিতে তথ্য দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।
তারা বলেছে, শতাংশের হিসাবে কম মনে হলেও সংখ্যার হিসাবে নারী নির্যাতনের ঘটনা অনেক বেশি।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী।
‘কনস্যুলার আগে কেন জানতে পারেনি, এখানে কোনো দুর্বলতা বা অবহেলা ছিল কি না, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক, তাহলে তারা কেন আগে এটা জানাল না’ -বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে বললেন কমিটির সভাপতি।
‘এই ঘটনার কারণে বোঝা যাচ্ছে সবকিছু মিলিয়ে এখানে একটা দুর্বলতা ছিল বলে মনে হচ্ছে’-যোগ করেন তিনি।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ১৪ দিন আগে তথ্য বিনিময়ের কথা উল্লেখ করেন জহরত আদিব চৌধুরী। বললেন ‘ওনারা এটা স্বীকার করেছেন যে ওই রিপোর্টটা আসলে ওইভাবে কেউ আইডেনটিফাই করেনি।’
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা দেখছে বিরোধী দল
২০ অক্টোবর ২০২৬
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, ওই তালিকায় বন্দিদের যে ক্যাটাগরি ছিল, তাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল ৬ মাস থেকে ১৫ বছরের জেল হতে পারে। মৃত্যুদণ্ড হবে, এটা তারা বুঝতে পারেননি। মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের জবাব চেয়েছে। সে জবাব এলে তা সংসদীয় কমিটিকেও জানাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কনস্যুলেটের কোনো অবহেলা ছিল কিনা, থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সৌদিতে ১ লাখ ৬৯ হাজারের মতো নারী শ্রমিক আছেন।
সৌদি আরবে ১ থেকে ২ শতাংশ নারী শ্রমিক ‘অ্যাবিউজের শিকার’ উল্লেখ করেন তিনি বলেন ‘১ হাজার ৩৬৪ জন নারী গৃহকর্মীকে উদ্ধার এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।’ পাসপোর্ট নিতে আসা নারী ও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জরিপে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় গত ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহকে ডেকে ব্যাখ্যা চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাকে ডাকা হয়।
গত ১৪ অক্টোবর (বুধবার) ওই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে তাদের এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
‘তাজির’ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দুই বাংলাদেশির
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
অপরাধের গুরুত্ব এবং স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইসলামি আইনের ‘তাজির’ ধারায় এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটি।
তাজির হলো ইসলামি আইনে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি। রায়ের পর রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে সাজা কার্যকর করতে বলা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে।
তবে ঠিক কী ধরনের অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল কিংবা কী অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।






