পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন খরচ অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে জমিজমা বিক্রি করে প্রবাসীদের ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে আসতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই খরচ কমিয়ে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
আজ সোমবার সিঙ্গাপুরে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৫-সিঙ্গাপুর’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখা প্রবাসীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ বলেছেন, অভিবাসীদের সার্বিক সেবা ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ডেডিকেটেড ‘মাইগ্রেশন উইং’ খোলা হয়েছে। একজন মহাপরিচালকের (ডিজি) নেতৃত্বে এই উইং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভোকেশনাল শিক্ষা এবং থার্ড ল্যাংগুয়েজ শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।
সিঙ্গাপুর প্রবাসী এবং দেশটির ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, গত ১৭-১৮ বছরে দেশের অর্থনীতির ওপর দিয়ে অনেক ঝড়ঝাপটা গেছে। বর্তমান সরকার দেশে একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ যুক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে। আপনারা যারা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, আপনারা কেবল রেমিট্যান্স প্রেরক না হয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা রাখুন। প্রবাসীদের বিনিয়োগ দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি পাঁচটি বিশেষ অনুরোধ জানান— ১. হুন্ডি পরিহার করে সর্বদা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো। ২. সিঙ্গাপুরের আইন, বিধিবিধান ও কর্মসংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা। ৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়া এবং যেকোনো উগ্রবাদ বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা। ৪. ভিন্ন ভাষা ও ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা। ৫. নতুন প্রযুক্তি, কারিগরি বিদ্যা ও ভাষার দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিয়ত দক্ষ করে তোলা।
বক্তব্যে সিঙ্গাপুরে সম্প্রতি দেউলিয়া হওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের ২০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে ১২৫ জনকে দ্রুততম সময়ে পুনর্বাসিত করায় সিঙ্গাপুরের মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এ ছাড়া বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করার জন্য সিঙ্গাপুর প্রবাসী সব রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, ওয়ান ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান এ এস এম শহীদুল্লাহ খান, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ও আইবিএর অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিন, প্রাইম ব্যাংক পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল রহমান এবং থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক বাসব বাগচি।







