সরকারে শরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ছে!

সরকারে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের অংশীদারত্ব আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে ইতিবাচক ভাবনা চলছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শরিক দলগুলোর নেতাদের বৈঠকের পর এ আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।
গত সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরিকদের ডেকে নৈশভোজের আড়ালে এক ধরনের অভিমান ভাঙানোর বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শরিক দলগুলোর নেতারা সরকারে আরও অংশগ্রহণ এবং যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীও তাদের মূল্যায়নের আশ্বাস দেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, দুর্দিনের রাজনৈতিক মিত্রদের পাশে রাখতে চায় দলটি। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় শরিকদের সঙ্গে কোনো ফাটল রাখতে চায় না তারা। সে কারণেই সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে শরিকদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
জানা গেছে, সরকারে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনেও শরিকদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। আগামী দিনগুলোতে মন্ত্রিসভায় রদবদল আনার যে চিন্তা করা হচ্ছে, সেই জায়গায় শরিকদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ছাড়া আলোচনা চলছে বিভিন্ন করপোরেশন, সরকারি সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে শরিকদের নিয়োগের বিষয়েও। কেউ কেউ বলছেন, এরই মধ্যে শরিকদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী করা হয়েছে। আগামী দিনেও এ ধরনের আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১১টি শরিক দলকে ১৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। সরকার গঠনের পরে দুই শরিক নেতাকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। তবে অধিকাংশ শরিকের মতে, এ অংশীদারত্ব এখনো সীমিত। তারা আরও কার্যকর অংশগ্রহণ চান।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে শরিক নেতারা এ বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। বৈঠকে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, গণদলের গোলাম মাওলা চৌধুরী এবং জমিয়তের গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য দেন। তারা একদিকে সরকারে আরও অংশীদারত্বের দাবি জানান, অন্যদিকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্য অটুট রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাস দেশের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এরই মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদ ও রাজপথ— দুই জায়গাতেই সক্রিয় রয়েছে। একই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এসব ইস্যু কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। সেই বাস্তবতায় ক্ষমতাসীন দলের জন্য রাজনৈতিক মিত্রদের ঐক্য ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিএনপির নেতারাও মনে করছেন, সরকারে থাকার কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নানা ধরনের চাপ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। তাই সরকারের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমও শক্তিশালী রাখতে হবে। একই সঙ্গে শরিক দলগুলোকেও আস্থায় রেখে রাজনৈতিক কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের মতে, ‘অতীতে আন্দোলন ও নির্বাচনে শরিকরা একসঙ্গে ছিল। এখন সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাদের অংশগ্রহণ, সহযোগিতা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামনে রাজনৈতিক মেরূকরণের সময়েও শরিকদের সম্পৃক্ত রেখে ঐক্য আরও সুসংহত করার লক্ষ্য রয়েছে।’
১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সরকারি দল ও শরিকদের ভবিষ্যতে একসঙ্গে কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হলো। প্রধানমন্ত্রী আগামীতে একসঙ্গে চলার বার্তা দিয়েছেন। আগামীতে আমরা একসঙ্গে পথ চলব, যেকোনো রাজনৈতিক সংকটও একসঙ্গে মোকাবিলা করব।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান আগামীর সময়কে বললেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সমমনা অনেক রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত ছিল। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া থাকতে পারে— এটা খুব স্বাভাবিক। অতীতে যতটা পেরেছি আমরা করেছি; নির্বাচনে তাদের অনেককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায়ও নেওয়া হয়েছে। হয়তো ভবিষ্যতে আমরা আরও করব।’






