ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাক শিল্পে নতুন মজুরি চূড়ান্তের আশা

সোমবার বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আক্তার— ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই যৌক্তিক ও মানসম্মত নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নবগঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আক্তার।
আজ সোমবার বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের অবিলম্বে কারখানায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাবুল বলেছেন, ‘শ্রমিক নেতারা কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মঘট বা কারখানা বন্ধের ডাক দেননি। বরং কতিপয় বহিরাগত কারখানায় ঢিল ছুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।’
তিনি জানালেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের প্রধান দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন। সরকার দ্রুততম সময়ে সেই বোর্ড গঠন করেছে। এখন মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় শ্রমিক পক্ষের জোরালো প্রস্তাব তুলে ধরা হবে।
বাবুল আক্তার বলছিলেন, ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে কোনো শ্রমিক সংগঠন সংশ্লিষ্টদের পাশে দাঁড়াবে না। তাই উৎপাদন বন্ধ করে নয়, বরং কারখানার কার্যক্রম সচল রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে।’
এদিকে, তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা ও সহিংস আন্দোলনের পেছনে ফ্যাসিস্ট সমর্থক ও সুযোগসন্ধানীদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত ধ্বংস করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা ছড়াচ্ছে। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে মুখোশধারী বহিরাগতদের এমন কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’
মন্ত্রী বলছিলেন, ‘যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সড়ক-মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তারা শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে না। অন্যায্য কর্মকাণ্ড ও সহিংসতায় জড়িত চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
কোনো ধরনের অপপ্রচারে কান না দিয়ে শ্রমিকদের অবিলম্বে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে কারখানায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার অনুরোধ করেন। সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যেসব নিরপরাধ শ্রমিক ও নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের আইনানুগভাবে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিগগিরই মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে দ্রুততম সময়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।’
তিনি জানালেন, প্রধানমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকবান্ধব ও শিল্পবান্ধব মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ সংক্রান্ত বোর্ডের প্রথম সভা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাদহী আমিন এবং সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া শ্রমিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মির্জা আল শামীম, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকাশ আহম্মেদ বাবুল, স্বাধীন গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাকিল হোসেন মোবারক, জাতীয় তৃণমূল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমীর হামজা খান, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুর রহমান, শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি লাভলী ইয়াসমীন এবং বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি মো. জাকির হোসেন।





