অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে চালু হবে ‘হেলথ বক্স’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রক্তচাপ মাপা, রক্তে শর্করা পরীক্ষা কিংবা গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পরীক্ষা— এসবের জন্য সবসময় ছুটতে হবে না হাসপাতালে। তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের বাড়ির দরজায় পৌঁছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করতে চালু হতে যাচ্ছে ‘হেলথ বক্স’। বহনযোগ্য এই কিটে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে পরিকল্পনা রয়েছে ‘হেলথ বক্স’ কার্যক্রম চালুর। এর আগে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রায় ৪৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন তিনজন করে স্বাস্থ্যকর্মী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ‘হেলথ বক্সে’ থাকবে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, গ্লুকোমিটার, স্টেথোস্কোপ, ওজন মাপার যন্ত্র, গর্ভাবস্থা পরীক্ষার কিট। আরও থাকবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টির অবস্থা নির্ধারণে এমইউএসি টেপ। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কারও মধ্যে রোগের ঝুঁকি ধরা পড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হবে তাকে।
ক্ষমতায় আসার আগে স্বাস্থ্য খাতে ৯টি বিষয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে ক্যানসার, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার কথা। এর অংশ হিসেবেই তৃণমূল পর্যায়ে রোগের ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘হেলথ বক্স’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গত জুনে ফ্রান্সের প্যারিসে অ্যালায়েন্স ফর ট্রান্সফরমেটিভ অ্যাকশন অন ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথের উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত সভায় অংশ নেয় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। পরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করা হয় ‘হেলথ বক্স’-সংক্রান্ত পরিকল্পনা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু জামিল ফয়সালের মতে, ‘হেলথ বক্স’ সাধারণ ফার্স্ট এইড বক্সের মতো নয়; এটি মূলত ব্যবহৃত হবে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগের ঝুঁকি শনাক্তের জন্য। প্রত্যন্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যারা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারেন না, এই উদ্যোগে বেশি উপকৃত হবেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. ফোয়ারা তাসমিম আগামীর সময়কে জানালেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকবে ‘হেলথ বক্সে’। প্রাথমিক পর্যায়ে পরিকল্পনা রয়েছে ৪৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের। নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে হতে পারে নিয়োগ।
প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর তাদের মাধ্যমে হেলথ বক্স কার্যক্রম চালু করা হবে উল্লেখ করে তার ভাষ্য, সরঞ্জাম ব্যবহার, পরীক্ষার ফলাফল বোঝা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করার বিষয়ে আলাদা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের।







