সম্ভবত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মহাকাশেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করবে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর বাসিন্দারা। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে পৃথিবীতে নেমে আসবে সৌরবিদ্যুৎ। ২০৫০ সালের আগে এই বাস্তবতা দেখবে মানুষ। কাল্পনিক মনে হলেও ২০১৯ সালেই এ খবর প্রকাশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস ম্যাগাজিন।
পৃথিবীর জনসংখ্যা ৯৬০ কোটিতে পৌঁছানোর আগেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের একপ্রকার বিকল্প মাধ্যম বের করা জরুরি বলেও তখনই মন্তব্য করেছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক আলি হাজিমিরির।
বর্তমানে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বেশ জনপ্রিয় সৌরশক্তির ব্যবহার। তবে আবহাওয়া এবং ঋতুর পরিবর্তনে অনেক সময় পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘটে ব্যাঘাত। কিন্তু মহাকাশে তো এমন কোনো সমস্যা নেই। হাজিমিরির মতে, ‘পৃথিবীর ওপরে দিন-রাতের কোনো চক্র নেই এবং মেঘ, আবহাওয়া কিংবা অন্য কোনো কিছু নেই যা সূর্যের আলোকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে; তাই সেখানে শক্তির একটি নিরবচ্ছিন্ন উৎস পাওয়া যায়।’ মজার বিষয় হলো, ‘স্পেস বেজড সোলার পাওয়ার’ বা মহাকাশে সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ বানিয়ে তা পৃথিবীতে পাঠানোর এমন অভিনব উপায় বেশ পুরনো। মহাকাশে সৌরশক্তি উৎপাদন করা এবং তা তারবিহীনভাবে পৃথিবীতে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি সর্বপ্রথম ১৯৪১ সালে আইজ্যাক আসিমভ তার ছোটগল্প ‘রিজন’-এ বর্ণনা করেছিলেন। এবং ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারোস্পেস বিজ্ঞানী পিটার গ্লাসার এ বিষয়ে প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন; যেটির নাম ‘পাওয়ার ফ্রম দ্য সান : ইটস ফিউচার।’ এর পর থেকে ১৯৭০ সালে বিভিন্ন বিজ্ঞানী দল এটি নিয়ে পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণা শুরু করে। তবে অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় কয়েকবার বন্ধ হয়ে যায় এ সেক্টরের গবেষণা। নাসার সাবেক বিজ্ঞানী জন মানকিন্সের মতে বর্তমানের উন্নত প্রযুক্তি এবং অশেষ সম্ভাবনার কারণে মহাকাশে সৌরশক্তি উৎপাদনের বিষয়ে আবারও আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা। মহাকাশ থেকে বিদ্যুৎ পৃথিবী আলোকিত করলে জ্বালানি এবং বিদ্যুতের দাম আসবে কমে। তারহীন বিদ্যুৎপ্রবাহ নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন হাজিমিরির।




