কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গভীর রাত। ফাঁকা অফিস। কোনো কর্মী নেই। কোনো মিটিং নেই। এমনকি নেই বসও। তবু থেমে নেই কর্ম। নির্জন অন্ধকারে কাজ করে যাচ্ছে একটি সিস্টেম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) একটি মডেল। সিস্টেমটি ঘাঁটছে কোম্পানির সব হিসাব। কোথায় সমস্যা হয়েছে বা ঘাটতি আছে, তা খুঁজে বের করছে। তারপরই সে ব্যস্ত ডেটা বিশ্লেষণের কাজে। সবশেষে স্বেচ্ছায় রিপোর্ট বানাচ্ছে ম্যানেজারের জন্য। শুধু তা-ই নয়, সকালে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করছে ই-মেইলও! ২০৩০ সাল-পরবর্তী কর্মক্ষেত্রের চিত্র হবে ঠিক এমনই। ভবিষ্যতে কর্মে রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়োগ হওয়ার পূর্বাভাস এখন বেশ পুরনো। তবে কেমন হবে সেই কর্মক্ষেত্র সে বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মার্ক বুঙ্গার। তিনি ফিউচারিস্ট সিস্টেম নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা।
ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের বিভিন্ন পূর্বাভাস নিয়ে চলতি বছরের জুনে একটি প্রতিবেদন করে টেক টার্গেট।
এআই বর্তমানে অনেক কর্মক্ষেত্রেই কাজ করছে কর্মীদের সহকারী হিসেবে। একজন ব্যক্তির দেওয়া নির্দেশনা বা প্রম্পট অনুযায়ী কাজ করে থাকে এসব প্রযুক্তি। তবে ২০৩০ সালের পর থেকে পরিস্থিতি এমন হতে পারে, যেখানে এআইয়ের দরকার পড়বে না আর কোনো নির্দেশ। সেসব কাজ নিজ থেকে একা একাই করে দেবে। পরবর্তী অধ্যায়ের আসল নাটকটা এখানেই। ভবিষ্যতে এআই শুধু অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সহযোগী থাকবে না। প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ব্যবহার হবে ক্যাপিটালিজমেও (পুঁজিবাদ)। এ বিষয়ে জুলি আস্ক অ্যাডভাইজরির বিশ্লেষক, পরামর্শক এবং প্রযুক্তি-ভবিষ্যৎবিদ জুলি জানিয়েছেন, ‘প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয়দের ভাবতে হবে কীভাবে তারা তাদের পণ্যে উদীয়মান প্রযুক্তি যুক্ত করবেন এবং কর্মীদের নতুন সব ‘সুপার পাওয়ার’ বা অসাধারণ সক্ষমতা প্রদান করবেন।’ টেক টার্গেটের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির এসব অগ্রগতি সেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে, যারা বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তির সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত। আবার যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক কৌশল এগিয়ে নিতে এগুলো ব্যবহার করবে, তাদের জন্য এটি বয়ে আনবে ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও। তবে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হবে, তাদের রয়েছে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।



