চাকরি ছেড়ে চায়ের দোকান খুলে মাসে আয় লাখ টাকা

প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কাপ চা বিক্রি করেন এই ভারতীয় তরুণ। ছবি: এনডিটিভি
মাসে ৩৮ হাজার রুপির চাকরি করতেন ভারতের এক তরুণ। কিন্তু সেই চাকরি ছেড়ে খুলে বসেন ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। শুরুতে সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিল নানা সন্দেহ।
এখন সেই দোকান থেকেই মাসে প্রায় ১ লাখ রুপি বা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা লাভ করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার এই সাফল্যের গল্প।
এক্স প্ল্যাটফর্মে এই গল্প শেয়ার করেন ওই তরুণের প্রতিবেশী। তিনি জানান, তার প্রতিবেশী আগে টেলিপারফরম্যান্সে চাকরি করতেন। মাসে প্রায় ৩৮ হাজার রুপি বেতন পেতেন। সীমিত বেতন বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ে বিরক্ত হয়ে গত মে মাসে চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ আমার প্রতিবেশী দরজায় কড়া নেড়ে এক বাক্স মিষ্টি দিলেন। ব্যস্ততার কারণে আমাদের খুব একটা দেখা হয় না। কয়েক মাস আগেও তিনি টেলিপারফরম্যান্সে চাকরি করতেন। মে মাসে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।’
তিনি আরও জানান, শুরুতে সবাই ভেবেছিলেন, এটি ভুল সিদ্ধান্ত। তবে প্রায় ২ লাখ রুপি বিনিয়োগ করে তিনি একটি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের পাশে সুন্দরভাবে সাজানো চায়ের দোকান চালু করেন। দোকানে চা তৈরি ও পরিবেশনের জন্য দুই নারী কর্মীকেও নিয়োগ দেন।
দোকানে সাধারণ চায়ের দাম রাখা হয়েছে ১০ রুপি বা ১৩ টাকা এবং প্রিমিয়াম চায়ের দাম ২০ রুপি। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কাপ চা বিক্রি হচ্ছে। এতে দৈনিক বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬ হাজার রুপি, যা মাসে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার রুপিতে পৌঁছায়।
দোকান ভাড়া, কাঁচামাল, কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে এখন মাসে প্রায় ১ লাখ রুপি নিট লাভ করছেন তিনি।
সম্প্রতি তিনি ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করে দোকানে বড়া পাও, সামোসা ও জিলাপির কাউন্টার চালু করেছেন। এ উপলক্ষে প্রতিবেশীদের মিষ্টি খাওয়ান। পোস্টে লেখক মন্তব্য করেন, ‘চাকরিতে থাকলে হয়তো তিনি এখনো ৩৮ হাজার রুপি বেতনেই পরবর্তী সময়ে ইনক্রিমেন্টের অপেক্ষায় থাকতেন। অনেক সময় সবচেয়ে বড় পদোন্নতি হলো, যেটা আপনি নিজেকেই দেন।
গল্পটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পোস্টটি ১৭ হাজার ৬০০-এর বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ২০০-এর বেশি লাইক পেয়েছে। মন্তব্যের ঘরেও নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা।
একজন লিখেছেন, ‘প্রতিটি সফল নতুন চায়ের দোকানের বিপরীতে ৯৯টি দোকান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসা করা মোটেও সহজ নয়। আপনার প্রতিবেশীকে অভিনন্দন ও শুভকামনা।’
আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নেয়। সবার সেই সাহস থাকে না।’
আরেক ব্যবহারকারীর ভাষ্য, ‘নিজের স্বস্তির জায়গা ছেড়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্যিই বড় সাহসের কাজ। তার জন্য শুভকামনা রইল।’
সূত্র: এনডিটিভি





