কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সৌরজগতের বিস্ময়কর একটি গ্রহ পৃথিবী। মানুষের বসবাসের একমাত্র স্থান। ১ সেকেন্ডের জন্যও নীরব থাকে না এ দুনিয়া। এক প্রান্ত ঘুমিয়ে গেলে জেগে ওঠে অন্য প্রান্তের দেশ। সবসময় হইহুল্লোড় আর নানা শব্দে মুখর থাকে। মজার বিষয় হলো, পৃথিবীর এই শোরগোল নাকি মহাকাশের গল্প শোনায় বিঘ্ন তৈরি করছে নাসার বিজ্ঞানীদের। সমস্যার সমাধানে নতুন কৌশল আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। মহাকাশের কবিতা ও কাহিনি শোনার উদ্দেশ্যে তারা চাঁদে প্রতিস্থাপন করবেন একটি বিশেষ রেডিও টেলিস্কোপ। ২০৩০ সালের পর যেকোনো সময়। ২০২৫ সালের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গত বছরই সেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘লাইভ সায়েন্স’।
উচ্চাকাঙ্ক্ষী এ প্রকল্পটি উপগ্রহের ‘মেগাকনস্টেলেশন’ বা বিশাল উপগ্রহ-জোটের হাত থেকে রক্ষা করবে জ্যোতির্বিজ্ঞানকে। বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে মহাকাশের সব গ্রহ, নক্ষত্রের সব রহস্য উন্মোচনে। মূলত পৃথিবী এবং মহাকাশের সব স্যাটেলাইটের শব্দ বাতিল করে মহাকাশের অন্য গ্রহের আওয়াজ ধারণ করে সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহে কাজ করবে এই টেলিস্কোপ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঁদের দূরবর্তী প্রান্তে একটি বিশাল রেডিও টেলিস্কোপ নির্মাণের জন্য নাসার অর্থায়িত একটি পরিকল্পনা রয়েছে চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে। চাঁদের এই অংশটি ‘ডার্ক সাইড’ নামে পরিচিত। পৃথিবী থেকে যা কখনো দেখা যায় না। গবেষকরা জানিয়েছেন, ত্রিশের দশকের মধ্যে এ প্রকল্প রূপ নিতে পারে বাস্তবে। টেলিস্কোপটির নাম মানববিজ্ঞানীরা দিয়েছেন ‘লুনার ক্রেটার রেডিও টেলিস্কোপ’। মহাবিশ্বের অন্যতম বড় কিছু রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করতে তারা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এই রেডিও ডিশ বা অ্যান্টেনা তৈরি করতে চান। এ ছাড়া ব্যক্তিগত মালিকানাধীন স্যাটেলাইটগুলো থেকে নির্গত অদৃশ্য শব্দ-তরঙ্গের ব্যাঘাত কমাতেও কাজ করবে তাদের নতুন উদ্ভাবন। নাসার এ প্রকল্প প্রথম প্রস্তাব করা হয় ২০২০ সালে। প্রথম পর্যায়ে এটি অর্থায়ন পায় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২১ সালে অর্থায়ন পায় আরও ৫ লাখ ডলারের। তবে চাঁদের ডার্ক অংশে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ নয়। কেননা সেখানে মানুষের পৌঁছানো অনেকটাই অসম্ভব। তাই প্রস্তাবিত টেলিস্কোপটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি করা হবে রোবট দিয়ে।




